
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, সংস্কার কী হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এখন একটি সাধারণ প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে বলেন যে কোনো সংস্কার হয়নি, কিন্তু এতো অল্প সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে এতগুলো সংস্কার কখনো হয়নি। কিছু মানুষ নেতিবাচকতা ছড়িয়ে দেয় যা এক ধরনের উদ্দীপক হতে পারে, তবে এগুলো মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ১৯৫৪-৫৫ সালের যে প্রত্যাশা ছিল স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠন করা, তা আমরা করেছি। সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ যে নিয়োগ হয়েছে, তা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন— শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন, সিপিবি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনি, ব্রিটিশ স্কুল অব ল’ এর ভাইস প্রিন্সিপাল ব্যারিস্টার নুসরাত খান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বজলুর রশীদ ফিরোজ, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সাবেক জজ ইকতেদার আহমেদ, ব্যারিস্টার এম মঈন আলম ফিরোজী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান, ব্যারিস্টার সারওয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আলী, সিজিএস’র নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী প্রমুখ।
আসিফ নজরুল বলেন, সরকারের সব ক্ষমতা উচ্চ আদালতকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে জবাবদিহিতা ছাড়া স্বাধীনতা সফল হয় না। উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের কোড অব কন্ডাক্টকে কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। মেজরিটি প্রোভিশন মানুষকে সফলতা দেবে। আইনগত সহায়তা এখন ৫ গুণ বেড়েছে। তাত্ত্বিকভাবে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যা কিছু প্রয়োজন ছিল, আমরা তা করেছি। যদি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়, তবে আপনি এর সফলতা পাবেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আইনের শাসনের পথে আমরা অনেকটাই এগিয়ে গেছি। নির্বাচিত সরকার যদি পরবর্তী সময়ে আন্তরিকতা না দেখায়, তবে আমরা এর সফলতা অর্জন করতে পারব না।