
মনোহরদীতে জমি বিরোধের জেরে গাছপালা ও বাঁশঝাড় কাটার অভিযোগ
মোঃ হিমেল মিয়া, মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি:
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের মনতলা ভাঙ্গি বাড়ি এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা ও বাঁশঝাড় কেটে ক্ষতিসাধন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি-ধামকি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মেহের আলী (৫০), পিতা-মৃত সফর আলী, রামপুর তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেহের আলীর সঙ্গে একই এলাকার কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধটি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও স্থায়ীভাবে সমাধান হয়নি। বরং মীমাংসার পরও বিভিন্ন সময় হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালিগালাজ ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মেহের আলী।
অভিযোগে বিবাদী হিসেবে রুকন (৫৫), মোশাররফ (৩০), রুহুল আমিন (৬০), মনোয়ারা বেগম (৩৫), মানিক (৩০), সালমা আক্তার (৪০), ইলিয়াস (২৮) ও মিজান (৪০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের সবার বাড়ি মনতলা ভাঙ্গি বাড়ি এলাকায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মেহের আলীর অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিবাদীরা বিভিন্ন সময় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। এছাড়া বাড়িতে এসে গালিগালাজ ও নানাভাবে হয়রানি করার অভিযোগও করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে মেহের আলীর বাড়ির আশপাশে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও বাঁশঝাড় কেটে ফেলা হয়। এতে আনুমানিক দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বিবাদী পক্ষের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি মিথ্যা ও বানোয়াট। জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে মেহের আলী এসব মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করছেন।
এদিকে, উভয় পক্ষের মধ্যে জমি-সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানা গেছে।
মেহের আলী বলেন, একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও প্রতিপক্ষের আচরণে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং মীমাংসার পরও হুমকি ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
এ ঘটনায় মেহের আলী রামপুর তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
রামপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ কাউসার হোসেন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।