• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ন |
  • English Version
ব্রেকিং নিউজঃ
মনোহরদীতে খাঁড়াব মুন্সিবাড়ী প্রবাসী সংগঠনের উদ্যোগে এসএসসি ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা মনোহরদী পৌরসভায় মাদকবিরোধী অভিযান, মাদকসেবীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড মনোহরদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩০০ লিটার চোলাইমদসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার মনোহরদীতে ডিমবোঝাই পিকআপ ডাকাতি: আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার মনোহরদীতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা মনোহরদীতে জমি বিরোধের জেরে গাছপালা ও বাঁশঝাড় কাটার অভিযোগ মনোহরদীতে পল্লী চিকিৎসক সমিতির উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত। মনোহরদীতে,স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে মনোনয়ন দেওয়া হবে :স্বাস্থ্য মন্ত্রী মনোহরদীতে নজরুল বর্ষ-২০২৬ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন মনোহরদীতে গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফতুল্লায় ভাঙ্গারী ব্যবসার আড়ালে চোরাই মালের জমজমাট বাণিজ্য

Reporter Name / ১৫৫ Time View
Update : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ন

[ad_1]

নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় ভাঙ্গারী ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চলছে চোরাই মালের জমজমাট বাণিজ্য। এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর। এসব ব্যবসার উপর নজরদারি নেই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের।

 

এসব ভাঙ্গারী ব্যবসার পালিত চোরেরা রাতের আঁধারে গ্যাসের রাইজার, বাসা বাড়ির বৈদ্যুতিক সার্ভিস লাইনের তার, বাড়ির পানির কল,বাড়ির আওতার টিন,বাড়ি নির্মাণ সামগ্রী ও বাড়ির সামনে থাকা পরিত্যক্ত আসবাবপত্র,বিভিন্ন অফিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,দোকান- ঘরের বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।

সুযোগ পেলে ফ্ল্যাট বা বাসা বাড়ীতে চুরি করে চক্রটি।

 

সন্ধ্যার পর থেকেই ভাঙ্গারির দোকানগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত এইসব চোরাই মাল কেটে টুকরা টুকরা করে অন্যসব সরঞ্জামের সাথে মিশিয়ে রাখা হয়। ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চোরাই মালামাল বিক্রি হচ্ছে ফতুল্লায় ভাঙ্গারী দোকানগুলোতে।

 

জানা যায়, ফতুল্লা থানার বিভিন্ন এলাকার 

 আনাচে কানাচে, ওলি-গলিতে গড়ে উঠেছে শতাধিক ভাঙ্গারী মালামাল কেনা-বেচার দোকান। এইসব ভাঙ্গারী দোকানিদের সহযোগিতা ও দাদনের টাকা নিয়ে এলাকা ভিত্তিক গড়ে উঠেছে একাধিক ছোট-বড় চোরের দল।

 

এই চোরের দলগুলো বিভিন্ন এলাকা থেকে লোহার যন্ত্রাংশ, বৈদ্যুতিক মোটর, তার, দরজা-জানলার গ্রীল,টিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি করে তা নাম মাত্র মূল্যে ভাঙ্গারী দোকানিদের কাছে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে।

 

এছাড়া বাড়ি-ঘর ও বিভিন্ন কারখানা সংস্কার কাজের জন্য রাখা রড, তারসহ লোহা দ্রব্যাদি ও চুরি হয়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

 

গত কয়েক দিন পূ্র্বে পাগলা এলাকায় বৈদ্যুতিক তার কেটে নেওয়ার সময় এক চোরকে হাতেনাতে আটক করে এলাকাবাসী। এছাড়া ওই ব্যক্তি একই জায়গা থেকে আগেও সার্ভিস লাইনের তার চুরি করে নিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানায়।

 

 

ফতুল্লার পিলকুনি জোড়পুল এলাকার লিপি বেগমের বাড়ির গ্যাসের লাইজার জানুয়ারি মাসের শুরুতে রাতে চুরি হয়। ওইদিন ওই এলাকার আরো ৫টি রাইজার চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও আমার বাসার জানালা খুলে মোবাইল চুরি হয়ে যায়।

 

এছাড়া গত ডিসেম্বর মাসে আমার বাড়ির ২ রুমের যত লোহার জিনিষপত্র, সোফার কোষণ, বৈদ্যুতিক লাইট, ফ্যান, রান্না ঘরের চালার টিন খুলে নেয়াসহ বেশ কিছু জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এতে আমার লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়ে যায়। 

কুতুবপুরের শাহাদাত আলীর ফ্যাক্টরির প্রায় লক্ষাধিক টাকার সার্ভিস লাইনের তার গত ২২ জানুয়ারি চুরি করে চোরেরা নিয়ে যায়।

 

এছাড়া ভুক্তভোগী আরাফাত ভূঁইয়া বলেন, আমার ফ্যাক্টরির সার্ভিস লাইনের তার দুইবার চুরি হয়েছে। এতে প্রায় আমার দেড় লাখ টাকার মত ক্ষতি হয়ে যায়। আমি থানায় জিডিও করেছি। কিন্তু এখনো কোনো চোর ধরার ক্ষেত্রে প্রশাসনের তেমন কোনো ভূমিকা দেখি নাই।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী বলেন, চুরির মাল ছাড়া প্রকৃত ভাঙ্গারী ব্যবসা করা খুবই কঠিন। আর সকলকেই ম্যানেজ করেই চলে এই ভাঙ্গারী ব্যবসা। তিনি আরও জানান, একেকজন ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীর অধীনে ১০-১৫ জন ফেরি ব্যবসায়ী থাকেন এবং বেশ কিছু চোরও দাদন দিয়ে লালন পালন করে থাকেন। তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কিছু নিত্যপণ্যের বিনিময়ে ব্যবহার অনুপযোগী কিংবা পরিত্যক্ত জিনিষপত্র সংগ্রহ করে আমাদের কাছে বিক্রি করে থাকেন।

পাগলা মেরিএন্ডারসনের সামনে রয়েছে দুটি ভাঙ্গারী দোকান। দিনের বেলা বন্ধ থাকলেও রাতের বেলা দোকান দুটি খোলা হয়।তালতলা এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি ভাঙ্গারী দোকান। এ সবকটি দোকানেই রাতের অন্ধকারে বেচা কেনা হয় চোরাই মালামাল। তাছাড়া পাগলা কুতুবপুরের প্রতিটি এলাকাতেও রয়েছে একাধিক ভাঙ্গারী দোকান। প্রতিটি দোকানেই বেচাকেনা হচ্ছে চোরাই মালামাল।

 

 

ফতুল্লা রেলস্টেশন থেকে পাগলা রেলস্টেশন পর্যন্ত রয়েছে প্রায় ১৫-২০টি ভাঙ্গারী দোকান। ইসদাইর নতুন রাস্তা,কোতালের বাগ হক বাজার, পাকিস্তান খাদঁ,

টাগারপাড়,পৌষাপুকর পাড়, শাসনগাওঁ,বিসিক,কাশিপুর হাটখোলা, বাশমুলি,আলীগঞ্জ শ মিলস গলি,কায়েমপুর সহ ফতুল্লা মডেল থানার প্রতিটি অলি-গলিতেই রয়েছে বহু সংখ্যক ভাঙ্গারী দোকান।

স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ভাঙ্গারী দোকান ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় চোর লালন করে চোরাই মালামালের ব্যবসা করে আসছে। এদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে প্রতিটি এলাকার বাসা বাড়ী,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কমে হ্রাস পাবে চুরির ঘটনা। কমে যাবে অপরাধ প্রবণতা।



[ad_2]


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category