• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ অপরাহ্ন |
  • English Version
ব্রেকিং নিউজঃ
মনোহরদীতে খাঁড়াব মুন্সিবাড়ী প্রবাসী সংগঠনের উদ্যোগে এসএসসি ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা মনোহরদী পৌরসভায় মাদকবিরোধী অভিযান, মাদকসেবীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড মনোহরদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩০০ লিটার চোলাইমদসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার মনোহরদীতে ডিমবোঝাই পিকআপ ডাকাতি: আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার মনোহরদীতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা মনোহরদীতে জমি বিরোধের জেরে গাছপালা ও বাঁশঝাড় কাটার অভিযোগ মনোহরদীতে পল্লী চিকিৎসক সমিতির উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত। মনোহরদীতে,স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে মনোনয়ন দেওয়া হবে :স্বাস্থ্য মন্ত্রী মনোহরদীতে নজরুল বর্ষ-২০২৬ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন মনোহরদীতে গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

দক্ষ ও দায়িত্বশীল শিক্ষক: আলোকিত ভবিষ্যতের নির্মাতা

Reporter Name / ১৪২ Time View
Update : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ অপরাহ্ন

[ad_1]

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি মূলত মানুষের—বিশেষ করে শিক্ষকদের—স্বপ্ন, শ্রম ও দায়বদ্ধতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক জীবন্ত সংগঠন।শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ, আন্তরিকতা, শ্রম, মেধা, দক্ষতা ও শৃঙ্খলা যেকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই প্রকৃত শক্তি। শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি মহান দায়িত্ব। শিক্ষকগন প্রতিদিন সেই দায়িত্বকে গভীর নিষ্ঠার সঙ্গে ধারণ করেন। শ্রেণিকক্ষে সময়মতো উপস্থিত হওয়া, পাঠ পরিকল্পনা করে পাঠদান করা, শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্ব বোঝার চেষ্টা করা—এসব কাজ তারা কেবল কর্তব্যবোধ থেকেই নয়, হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা থেকেও করেন। অনেক সময় দেখা যায়, ক্লাসের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কোনো শিক্ষার্থী কোনো বিষয় না বুঝলে শিক্ষক ধৈর্য ধরে আবার ব্যাখ্যা করেন। এই অতিরিক্ত যত্নই একজন শিক্ষকের প্রকৃত পরিচয় বহন করে।

 

কোমলমতি কোন শিশু যখন একজন ছন্দা মিসের কাছেই পড়তে বায়না ধরে, আরিফ স্যার যখন বন্ধের দিনও শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে চান, ইব্রাহীম স্যার যখন শিক্ষার্থীদের বাংলায় এ প্লাস পাওয়ার কথা বারবার ভাবেন, সেলিম স্যার যখন শিক্ষার্থীদের ইংরেজি কথোপকথনের পারদর্শিতার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতির কথা ভাবেন,সোলায়মান স্যার যখন সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চিন্তার জগত বিস্তৃত হয় বলে মনে করেন, সীমা মিস যখন শিশুদের সাথে অন্তর থেকে ঠিক মায়ের মতো একাকার হয়ে সম্পৃক্ত হন, সৌমিক স্যার এবং জান্নাত মিস যখন শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করাতে ত্যাগ স্বীকার করেন- এসব দেখে সত্যিই আমি মুগ্ধ হই, অনুপ্রাণিত হই।

 

শিক্ষকদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য গুণ হলো নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা। একটি প্রতিষ্ঠান তখনই সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে যেতে পারে, যখন তার শিক্ষকগন নিজেরাই নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন। সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্বশীল আচরণ, অফিসিয়াল কাজের প্রতি সততা—এসব গুণ শিক্ষার্থীদের জন্যও এক নীরব শিক্ষা হয়ে ওঠে। কারণ শিক্ষার্থীরা কেবল বই থেকে নয়, শিক্ষকের আচরণ থেকেও জীবন গঠনের পাঠ শিখে। শিক্ষকতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবিকতা। শিক্ষকগন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলেন, যেখানে রয়েছে স্নেহ, সম্মান ও সৌজন্যের সুন্দর সমন্বয়। শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষককে কেবল পাঠদাতা হিসেবে নয়, বরং একজন অভিভাবক, পথপ্রদর্শক ও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখে। এই সম্পর্কই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত পরিবেশকে মানবিক ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কখনো একা কারও দ্বারা সম্ভব নয়। এটি একটি সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। পাঠদান ছাড়াও সহশিক্ষা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক চর্চা, ক্রীড়া, নৈতিক শিক্ষা—সব ক্ষেত্রেই তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে। আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন পদ্ধতি শেখা, প্রযুক্তি ব্যবহার করা, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করা—এসব প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে তাঁরা কেবল বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও কাজ করেন।

 

একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাণ হলো তার শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রতি সম্মান, নিয়ম মেনে চলা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে আন্তরিক অংশগ্রহণ—এসব গুণ একটি সুস্থ ও প্রাণবন্ত শিক্ষাঙ্গনের প্রতিচ্ছবি। অন্যদিকে অভিভাবকদের আন্তরিকতা ও সহযোগিতাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রার অন্যতম শক্তি। সন্তানদের শিক্ষার বিষয়ে তাঁদের সচেতনতা, শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রমে সহযোগিতামূলক মনোভাব শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করে তোলে। বিদ্যালয় ও পরিবার যখন পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার বন্ধনে আবদ্ধ থাকে, তখন শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশ আরও সুন্দরভাবে সম্ভব হয়। সুতরাং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আসলে একটি বৃহৎ পরিবার—যেখানে শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সকলে মিলেই একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলেন, যা একটি প্রতিষ্ঠানকে সত্যিকার অর্থে সফল ও অনুকরণীয় করে তোলে।

 

একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক সমাজের সবচেয়ে বড় নির্মাতা। কারণ তাঁর হাত ধরেই গড়ে ওঠে আগামী দিনের নাগরিক, নেতৃত্ব ও মানবিক সমাজ। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত পরিচয় তার ভবন বা বাহ্যিক সাজসজ্জায় নয় এমনকি শুধু ফলাফলের পরিসংখ্যানও সবকিছু নয় বরং তার শিক্ষকদের সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতাই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের সম্মিলিত প্রয়াসই একটি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যায় আলোকিত ভবিষ্যতের পথে। কারণ একজন ভালো শিক্ষকই পারেন একটি ভালো প্রজন্ম গড়ে তুলতে, আর একটি ভালো প্রজন্মই পারে একটি সুন্দর দেশ নির্মাণ করতে।

 

লেখক:

ড. মো: বিল্লাল হোসেন 

উপাধ্যক্ষ

মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

আরও পড়ুন:শিশুর অধিকার: টেকসই সমাজের অঙ্গীকার’



[ad_2]


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category