
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বিদ্যমান করহার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি, কর ফাঁকি রোধ এবং কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে একটি সমন্বিত কৌশল নির্ধারণ করেছে সরকার। রবিবার (২৯ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এ অর্থ ব্যয় করা হবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে। বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী শাসনামলের রেখে যাওয়া ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত’ অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ কর-জিডিপি অনুপাতের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল দেশের অন্যতম। এ প্রেক্ষাপটে সরকারের লক্ষ্য বর্তমান মেয়াদে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে পৌঁছানো। সরকার কথার বদলে পরিসংখ্যান দিয়ে সাফল্য প্রমাণ করতে চায় বলেও জানান তিনি।
আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, চলতি চতুর্থ প্রান্তিকে রাজস্ব আহরণ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হবে। এ অর্জনের মাধ্যমে সরকার অতিরিক্ত দেশীয় বা বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্ষম—এ নিয়ে জনমনে যে সংশয় রয়েছে, তা দূর হবে। সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অন্যতম মূল উপাদান হিসেবে করহার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদের পরিমাণ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাড়তি রাজস্ব ব্যবহার করে সরকার ফ্যামিলি কার্ডসহ যুগান্তকারী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য সহায়তা কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। এ ধরনের সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এছাড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সরকার পরিচালন ব্যয়ের পরিবর্তে মূলধনী ব্যয়ে (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি—এডিপি) অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। এর আওতায় জ্বালানি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিম্ন ও নিন্ম মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার দুটি প্রধান পথে এগোচ্ছে—কাঠামোগত সংস্কার ও নীতিগত সংস্কার।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর মতো খাতে করের অর্থ ব্যয় নিশ্চিত করা হবে, যাতে নাগরিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে উৎসাহিত হন। ১৮০ দিন, এক বছর ও পাঁচ বছরের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। অন্তর্বর্তীকাল থেকে নির্বাচিত সরকারের দিকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলাই লক্ষ্য, যা সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।