• বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন |
  • English Version
ব্রেকিং নিউজঃ
মনোহরদীতে জমি বিরোধের জেরে গাছপালা ও বাঁশঝাড় কাটার অভিযোগ মনোহরদীতে পল্লী চিকিৎসক সমিতির উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত। মনোহরদীতে,স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে মনোনয়ন দেওয়া হবে :স্বাস্থ্য মন্ত্রী মনোহরদীতে নজরুল বর্ষ-২০২৬ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন মনোহরদীতে গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার মনোহরদীতে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: গাজীপুর থেকে একমাত্র আসামি গ্রেপ্তার মনোহরদীতে গাঁজা সেবন করে উশৃঙ্খল আচরণ, যুবকের ৫ মাসের কারাদণ্ড চাঁদাবাজ-দখলবাজদের প্রশ্রয় নয়, জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে মনোহরদীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনোহরদীতে ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার রহস্য ২৪ ঘণ্টায় উদঘাটন, বাবা গ্রেপ্তার মনোহরদীতে রামপুর পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে ১২ পিস ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেফতার

চনপাড়া সেতু যেন মরণফাঁদ

Reporter Name / ১১০ Time View
Update : বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

[ad_1]

ডেমরা-কালিগঞ্জ সড়কের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ অংশে বালু নদীর ওপর নির্মিত চনপাড়া সেতু এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। নদীতে চলাচলকারী বালুবাহী ভারী বাল্কহেডসহ বিভিন্ন নৌযানের ধাক্কা ও ঘর্ষণের ফলে সেতুটির বেহাল অবস্থা। সেতুর চারটি পিলার, বিম ও রেলিংয়ের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়ায় রড বের হয়ে আছে। এতে অনেকটা কঙ্কালসার রূপ ধারণ করেছে সেতুটি।

 

রাজধানী ঢাকার ডেমরা থেকে রূপগঞ্জ হয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে উপজেলার বালু নদীতে নির্মিত এই সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া ও অযত্ন-অবহেলায় যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেতুর দুই পাশে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সাইনবোর্ডও টানিয়ে দিয়েছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নিরুপায় হয়ে ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। এতে যে কোনো সময় সেতুটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সূত্র জানায়, বিষয়টি সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে অবহিত করা হয়েছে। এখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যা বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। নতুন সেতুটি বাল্কহেড বা ট্রলারের ধাক্কা প্রতিরোধ করার জন্য শক্তিশালী নকশায় তৈরি করা হবে।

 

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর এ অবস্থা হলেও তা মেরামত কিংবা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেতুর পাশে নতুন করে আরও একটি সেতু নির্মাণ করার কথা বললেও কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘ ১৪ বছরেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নদীতে চলমান ট্রলারের ধাক্কায় সেতুর চারটি পিলার, বিম ও রেলিংয়ের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯১ সালে এলজিইডির অর্থায়নে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ১১০ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। নদীতে চলাচলকারী নৌজানের ধাক্কা ও ঘর্ষণে ২০১২ সালের পর থেকে পিলার ও রেলিং খসে পড়লেও দীর্ঘ এক যুগের অধিক সময়েও সেতুটির কোনো সংস্কার হয়নি। প্রতিনিয়ত বাল্কহেডের ধাক্কায় পিলারগুলো আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। দিনদিন দুর্ঘটনার শঙ্কা আরও তীব্র হচ্ছে।

 

মেয়েকে নিয়ে রিকশায় সেতু পার হচ্ছিলেন শাহিনা আক্তার। তিনি বলেন, প্রতিদিন এই সেতু পার হয়ে মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাই। যান চলাচলের সময় সেতুটির কাঁপুনি দেখে মনে হয় এই বুঝি ভেঙে পড়লো। তখন খুবই ভয় লাগে।

সেতু পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, বিভিন্ন নৌযানের আঘাতে ২০১২ সাল থেকে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। ১৪ বছরে সেতুটি মরণফাঁদে পরিণত হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটিকে সংস্কার করা হয়নি।

ব্যবসায়ী আবু তালেব বলেন, রাজধানীর টাকার সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভারি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই ভারি যে কোনো পণ্য বহনে অতিরিক্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। কর্তৃপক্ষ এ সেতু বিষয়ে খুবই উদাসীন। অতি দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ সেতু ভেঙে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটতে পারে।

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়াতে ভারি যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বালু নদীর ওপর চনপাড়া সেতুর জরাজীর্ণতা ও ঝুঁকির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। প্রকৌশল বিভাগের একটি টিম এসে এটা নিয়ে একটা স্টাডি করে তারা যখন একটা সলিউশন বের করবে, এর পরই আমরা এই কাজটায় হাত দিতে পারবো। দ্রুত সময়ের ভেতর এখানে নতুন সেতু নির্মাণ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর কাজ করছে।



[ad_2]


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category