
নরসিংদীর মাধবদী কোতয়ালীরচর বাগেরবাড়ি জামে মসজিদের ওয়াকফকৃত জমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মসজিদের মুসল্লি, এলাকাবাসী ও নারীরা। মঙ্গলবার (১৯ মে) যোহর নামাজের পর কোতয়ালীরচর এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মুসল্লি ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় আবু ছাইদ (মেম্বার) মসজিদের ওয়াকফকৃত জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছেন। এতে বাধা দেওয়ায় মসজিদের মুতাওয়াল্লি, কার্যকরী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে মসজিদের মুসল্লিসহ শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন। এসময় বক্তব্য রাখেন কোতয়ালীরচর বাগেরবাড়ি জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লি মো. হারিছ দেওয়ান, সহ-সভাপতি মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম, সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা মুফতি আশরাফ আলী, কোষাধ্যক্ষ হুমায়ুন দেওয়ানসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, আবু ছাইদ মেম্বার যতটুকু জমি ক্রয় করেছেন, তার চেয়ে বেশি জমি দখল করে নির্মাণকাজের চেষ্টা করছেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষ একাধিকবার নিষেধ করলেও তিনি রাতের আঁধারে লোকজন নিয়ে এসে মসজিদের জমি দখলের চেষ্টা চালান।
তারা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। জমি সংক্রান্ত মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায়ও জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা দাবি করেন, জমি রক্ষায় বাধা দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি ঘটনার দিন হারিছ দেওয়ান কক্সবাজারে অবস্থান করলেও তার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। মানববন্ধন থেকে মসজিদের জমি রক্ষা ও দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
অন্যদিকে, আবু ছাইদ (মেম্বার) অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তার কাছে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার নির্মাণাধীন দেয়াল ভেঙে রড ও সিমেন্ট লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে মহিষাশুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুফতি কাওছার আহমেদ বলেন, স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে। এতে আবু ছাইদ মেম্বারের দখলে কিছু জমি থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা মসজিদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে একদিন জমি মেপে বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে জানা যায়, জমির পরিবর্তে মসজিদকে ৭ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন আবু ছাইদ মেম্বার। দেয়াল ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।