• শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন |
  • English Version

বদলাচ্ছে জনমত, পতনের মুখে মোদির জনপ্রিয়তা

Reporter Name / ১৫৮ Time View
Update : শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন


এমওটিএনের সমীক্ষা

ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে একসময় অদম্য জনপ্রিয়তার প্রতীক ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টানা ১০ বছরের  বেশি সময় ধরে জনগণের বড় অংশ তার পাশে থেকেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই আস্থা স্পষ্টভাবে ক্ষয় হতে শুরু করেছে। 

কিন্তু ভারতের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের বার্ষিক ‘মুড অব দ্য নেশন’ (এমওটিএন) সমীক্ষায় চমকপ্রদ কিছু তথ্য উঠে এসেছে । সমীক্ষাটি পরিচালনা করেছে সি-ভোটার নামে একটি সংস্থা। গত জুলাইয়ের ১ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশের প্রতিটি লোকসভা আসন থেকে ৫৪ হাজার ৭৮৮ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এর সঙ্গে আরও দেড় লক্ষাধিক অতিরিক্ত সাক্ষাৎকার যোগ করে মোট ২ লাখ ৬ হাজার ৮২৬ মানুষের মতামত বিশ্লেষণ করে সমীক্ষাটি করা হয়। এ বিশাল ডেটাবেইস বলছে, মোদি সরকারের জনপ্রিয়তা ও আস্থার সূচক এখন নিম্নমুখী।

২০২১ সালে মোদির জনপ্রিয়তা ছিল ৭০ শতাংশ, ২০২৫ সালে এসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ শতাংশে। শুধু তাই নয়, এনডিএ সরকারের কাজকর্মে সন্তুষ্টির হার গত ছয় মাসে কমেছে ১০ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ৬২ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট ছিল, এখন তা দাঁড়িয়েছে ৫২ শতাংশে। বিশ্লেষকদের মতে, এটা একটা দীর্ঘমেয়াদি পতনের ধারা, যা ভবিষ্যতে বিজেপির জন্য বড় রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। 

২০২৪ সালে যেখানে ৪২ শতাংশ মানুষ মনে করত ভারতীয় গণতন্ত্র হুমকির মুখে, এবার সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ শতাংশে। মাত্র ৩৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন, গণতন্ত্রের জন্য কোনো হুমকি নেই। এ ছাড়া ৪৬ শতাংশ মনে করে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।

৪৩ শতাংশ মানুষ মনে করছেন, বিরোধীশাসিত রাজ্যে রাজ্যপালদের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক। মাত্র ৩৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ভারতে এখনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে, অথচ ২০২১ সালে এ হার ছিল ৫৫ শতাংশ, যা তিন বছরের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এ থেকে স্পষ্ট সাধারণ মানুষের মনে অস্থিরতা ও বিভাজনের ছবি।

৪৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি রোধে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীশিবিরে কংগ্রেসকে ৬৬ শতাংশ মানুষ প্রধান বিকল্প শক্তি হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর ভাবমূর্তিও দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। ৫০ শতাংশ মানুষ তাঁর কাজকে ইতিবাচক বলে মনে করেছেন, এর মধ্যে ২৮ শতাংশ বলেছে, তাঁর কাজ অসাধারণ। এটা নিঃসন্দেহে কংগ্রেসের জন্য নতুন রাজনৈতিক অক্সিজেন।

সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৫৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এনডিএ সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সুবিধা পেয়েছে মূলত ধনী ও বড় ব্যবসায়ী শ্রেণি। ৫০ শতাংশ মনে করে, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার বিষয়টা আসলে প্রতীকী। সাধারণ মানুষের জীবনমানের তেমন উন্নতি হয়নি। ৫৪ শতাংশের মতে, ভারতে ব্যবসা শুরু ও চালানো এখনো কঠিন।

মানুষের প্রধান উদ্বেগ বেকারত্ব ও মূল্যবৃদ্ধি। ৭২ শতাংশ মানুষ বেকারত্বকে সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ৯২ শতাংশ জানিয়েছে, গত এক বছরে খরচ বেড়েছে। ৬১ শতাংশ বলেছে, সংসার চালানো এখন প্রায় অসম্ভব, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে উন্নয়নের বড় স্লোগানগুলো মানুষের জীবনে আর বাস্তব সাড়া ফেলছে না। সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে ৫৫ শতাংশ সরকারকে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বলে মনে করলেও মাত্র ৫৪ শতাংশ বলেছে, সরকার তথ্য প্রদানে স্বচ্ছ ছিল।

সব মিলিয়ে সমীক্ষার ফল বলছে, জনমত বদলাচ্ছে। মোদি সরকারের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে কমছে, মানুষ গণতন্ত্র নিয়ে শঙ্কিত, বিরোধী শক্তি কংগ্রেস আবার মাথা তুলছে আর বেকারত্ব–মূল্যবৃদ্ধি–অর্থনীতি নিয়ে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে।




আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts