• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন |
  • English Version

৫ দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা তিন ইসলামী দলের

Reporter Name / ১১৭ Time View
Update : বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন


নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, নির্বাচনী লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করা, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং পিআরের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে নামছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফাত মজলিসসহ সমমনা দলগুলো।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় মগবাজার আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ইতোমধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভয়ভীতিমুক্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়ে আসছি। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ, ভোটকেন্দ্র দখল, পেশিশক্তি প্রদর্শন ও ভোটের বিভিন্ন অনিয়ম ও অপতৎপরতা বন্ধ, কোয়ালিটি-সম্পন্ন পার্লামেন্ট এবং দক্ষ আইনপ্রণেতা তৈরিসহ প্রতিটি ভোট মূল্যায়নের লক্ষ্যে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছি। 

৫ দফা দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা জামায়াতের

জামায়াতের দাবিসমূহ হলো- ১. জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করা। ২. আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা। ৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। ৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা। ৫. স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা। 


দাবিসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত কর্মসূচি পালন করা হবে- ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল। ১৯ সেপ্টেম্বর দেশের সকল বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ মিছিল। ২৬ সেপ্টেম্বর দেশের সকল জেলা/উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আমরা দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

এদিন সংবাদ সম্মেলনে ৫ দফা দাবি পূরণের লক্ষ্যে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের মৌলিক সংস্কার নিশ্চিত করা, কিন্তু সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে কেবল নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে আবারও পুরোনো অশুভ চক্রে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

দাবীসমূহ হচ্ছে- ১. জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে। ২. নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে হতে হবে। ৩. সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। ৪. গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান হতে হবে। ৫. বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ভারতীয় তাবেদার ও ফ্যাসিবাদের দোসর জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের বিচার করতে হবে এবং বিচার চলাকালীন তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। প্রাথমিকভাবে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো হলো: ১৮ সেপ্টেম্বর: ঢাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল। ১৯ সেপ্টেম্বর: দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে বিক্ষোভ। ২৬ সেপ্টেম্বর: সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল।

একই সময় রাজধানীর পল্টন কালভার্ট রোডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ দ্রুত ঘোষণা ও এর আইনি ভিত্তি প্রদানসহ সময়মতো নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে তিন দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দীর্ঘ আলোচনার পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ-২০২৫ প্রণয়ন করেছে, যা এখন সকল পক্ষের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। এ অবস্থায় বর্তমান সরকারকে দ্রুত সনদ ঘোষণা করে এর আইনি ভিত্তি প্রদান করতে হবে এবং এর আলোকে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। 

খেলাফত মজলিসের দাবী সমূহ হলো: ১. অবিলম্বে জুলাই জাতীয় সনদ- ২০২৫ ঘোষণা করা ও এর আইনী ভিত্তি দেয়া। ঘোষিত জুলাই জাতীয় সনদ- ২০২৫ এর ভিত্তিতেই  ফেব্রুয়ারী ২০২৬’র জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা।  জুলাই জাতীয় সনদ- ২০২৫ এর আইনী ভিত্তি প্রদানের জন্য আমাদের প্রস্তাবনা হচ্ছে-   ক. জুলাই জাতীয় সনদ- ২০২৫ স্বাক্ষরের পর দুই মাসের মধ্যে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ-২০২৫ কে সাংবিধানিক ও আইনী মর্যাদা বা বৈধতা প্রদান করা। অথবা খ. জুলাই সনদে রাষ্ট্রীয় পলিসি বা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়গুলো অর্ডিনেন্স বা নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়ন করা। আর সংবিধান সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ঘোষণার মাধ্যমে আশু কার্যকর করা তবে শর্ত হচ্ছে যে, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে কোন পরিবর্তন- পরিবর্ধন ছাড়াই সেগুলো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন করতে সংসদ সদস্যগণ বাধ্য থাকবেন- এ মর্মে সকল দল ও পক্ষের কাছ থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করা। ২. পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের উচ্চ কক্ষের সদস্য নির্বাচন করা। ৩. আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও তার দোসরদের অপরাধের বিচার দৃশ্যমান করা। ৪. আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সব দোসরদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড স্থগিত ও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা। ৫. নির্বাচনে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করতে হবে। অবৈধ অস্ত্র, পেশী শক্তি, কালো টাকার প্রভাবমুক্ত সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ৬. দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গানের শিক্ষক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে বাতিল করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের কার্যকর ইউদ্যোগ নিতে হবে।

এসব দাবী আদায়ে নিম্নোক্ত কর্মসূচী ঘোষণা করেছে খেলাফত মজলিস। ১. ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল। ২. ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শুক্রবার দেশের সকল মহানগরীতে বিক্ষোভ মিছিল। ৩. ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ জেলা/ উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল। এরমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই জাতীয় সনদ- ২০২৫ এর আইনী ভিত্তি প্রদানের সুস্পষ্ট উদ্যোগ না নিলে পরবর্তীতে বৃহত্তর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।




আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts