• বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন |
  • English Version

শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যদের পূর্ণ সুরক্ষা ও স্বাধীনতা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

Reporter Name / ৪ Time View
Update : বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন


গভর্নর

দেশের ইসলামী ব্যাংকগুলোর শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যরা এখন থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের পূর্ণ সুরক্ষা প্রদান করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতে যথাযথ তদারকির অভাবে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানে অর্থপাচারের মতো ঘটনা ঘটেছে। ইসলামী ব্যাংকিং যেহেতু পণ্যভিত্তিক বা সম্পদ-নির্ভর কাঠামোতে চলে, তাই সঠিক বাস্তবায়ন হলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকার কথা নয়। বর্তমান সংকট কাটাতে শরিয়াহ বোর্ডগুলোকে সর্বোচ্চ ক্ষমতায়ন করার এবং তাদের সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ভবনে আয়োজিত ‘ইসলামী ব্যাংকিং-এর বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব আশ্বাস দেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দেশের প্রায় সকল ইসলামী ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা।

আলেম-উলামাদের গুচ্ছ প্রস্তাবনা সভায় উপস্থিত দেশের শীর্ষস্থানীয় শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ, আলেম ও শিক্ষাবিদরা ইসলামী ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেন- একটি স্বতন্ত্র ‘ইসলামী ব্যাংকিং আইন’ দ্রুত প্রণয়ন করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকিং তদারকির জন্য আলাদা একজন ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ দেয়া। বড় বিনিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে শরিয়াহ সুপারিভাইজরি কমিটির অন্তত তিনজন সদস্যের সম্মতি বাধ্যতামূলক করা এবং কমিটিকে পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীন আইনি অধিকার প্রদান করা। ব্যাংক পরিচালক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ন্যূনতম জ্ঞান থাকা বাধ্যতামূলক করা এবং প্রতিটি পরিচালনা পর্ষদে অন্তত একজন মুফতি বা ফকিহ নিয়োগ দেয়া। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বছরে অন্তত একবার বহিঃস্থ শরিয়াহ নিরীক্ষা চালু করা এবং একটি স্বচ্ছ মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি করা। অর্থপাচার ও বড় ধরনের দুর্নীতিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে গণ্য করে কঠোর ফৌজদারি শাস্তির বিধান করা এবং সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে তারল্য সহায়তা প্রদান করা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মতবিনিময় সভায় আলেমরা বাংলাদেশকে একটি ‘ইসলামী ব্যাংকিং হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও রিসার্চ সেন্টার তৈরির প্রস্তাব দেন। এছাড়া মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের মতো পর্যায়ক্রমে সকল কনভেনশনাল ব্যাংককে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। গভর্নর তার সমাপনী বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংক ও হাসপাতালগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে নিছক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

—এজেড




আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts