• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন |
  • English Version
ব্রেকিং নিউজঃ
দক্ষিণ শিয়াচরে বেহাল সড়ক পরিদর্শনে এনসিপি নেতা গাফফারী নারায়ণগঞ্জে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্নাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা সোনারগাঁয়ে কোটি টাকার মোবাইল চুরি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬: মনোহরদীতে শ্রেষ্ঠ কলেজ প্রধান হিসেবে মোঃ নাজিম উদ্দিনকে সম্মাননা প্রদান নারায়ণগঞ্জে ব্রাজিল সমর্থকদের  বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ফতুল্লায় মাদক দ্রব্য ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ গ্রেপ্তার ৩ মনোহরদীতে মাদকবিরোধী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত। মনোহরদীতে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত মনোহরদীতে বন্য হাতি দিয়ে অভিনব চাঁদাবাজি, অতিষ্ঠ চালক ও ব্যবসায়ীরা ফতুল্লার গাবতলীেত মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল

মনোহরদীতে বন্য হাতি দিয়ে অভিনব চাঁদাবাজি, অতিষ্ঠ চালক ও ব্যবসায়ীরা

Reporter Name / ৮ Time View
Update : শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন


নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার এবং ব্যস্ততম রাস্তাঘাটে বন্য হাতি ব্যবহার করে অভিনব কায়দায় চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫ দিন যাবৎ এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি হাতি ও তার মাহুতকে দিয়ে এই কার্যক্রম চালাচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী এবং বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মনোহরদী বাসস্ট্যান্ড, চালাকচর বাজার, হাতিরদিয়া বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই চাঁদাবাজি চলছে। বিশালদেহী হাতিটিকে রাস্তার মাঝখানে দাঁড় করিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, বাস ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনের গতিবিধি রোধ করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী চালকরা জানান, হাতির পিঠে থাকা মাহুতের ইশারায় হাতিটি গাড়ির সামনে এসে শুঁড় বাড়িয়ে দেয়। মাহুতের দাবি অনুযায়ী ১০ থেকে ৫০ টাকা, কিংবা তারও বেশি টাকা হাতির শুঁড়ে গুঁজে না দেওয়া পর্যন্ত রাস্তা ছাড়ছে না হাতিটি। কোনো কোনো চালক ভয় পেয়ে বা ঝামেলা এড়াতে দ্রুত টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। আবার কেউ দিতে অস্বীকৃতি জানালে হাতি দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে, যা ব্যস্ত সড়কে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।

শুধু গণপরিবহনই নয়, বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়েও একইভাবে টাকা তুলছে হাতিটি। ব্যবসায়ীরা জানান, হঠাৎ করেই বিশাল হাতি দোকানের ভেতরে শুঁড় ঢুকিয়ে দেয়। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত শুঁড় সরায় না। এতে দোকানে থাকা ক্রেতারা ভয়ে দিগ্বিদিক ছুটে পালান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চালাকচর বাজারের এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

অভিযোগের বিষয়ে হাতির মাহুতের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তার দাবি, হাতির বিশাল খাদ্যের জোগান দিতে এবং এর ভরণপোষণের জন্য তারা মানুষের কাছে সাহায্য চান। কেউ খুশি হয়ে দিলে নেন, জোর করা হয় না। তবে স্থানীয়দের দাবি, এটি খুশির দান নয়, বরং প্রাণীর ভয় দেখিয়ে এক প্রকার জোরপূর্বক জিম্মি করে টাকা আদায়।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতির মতো বড় প্রাণীকে জনবহুল এলাকায় এনে অর্থ সংগ্রহ করা শুধু জননিরাপত্তার জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ নয়, বরং প্রাণীটির কল্যাণের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বন বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতীতেও হাতি ব্যবহার করে দোকান ও যানবাহন থেকে টাকা আদায়ের ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। চট্টগ্রাম, রংপুর, সিরাজগঞ্জ ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের অভিযোগের কারণে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের ঘটনাও রয়েছে।

এ বিষয়ে মনোহরদী উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় থানা পুলিশ এবং বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত তদন্ত করে জনভোগান্তি বন্ধ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, জননিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে হাতি ব্যবহার করে এভাবে অর্থ আদায়ের প্রবণতা বন্ধ করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রাণীটির যথাযথ সংরক্ষণ ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।




আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts