
সকাল থেকেই টিকিট কেটে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকের অপেক্ষায় সাধারণ রোগীরা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লাইন আরও দীর্ঘ হয়, বাড়তে থাকে ভোগান্তি। কেউ অসুস্থ শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে মেঝেতে বসে পড়ছেন, আবার কেউ চিকিৎসা নিতে এসে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এমন দৃশ্য নতুন নয়—প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার পশ্চিম পাশে অবস্থিত নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ কক্ষের সামনে রোগীদের দীর্ঘ সারি। সকাল পেরিয়ে বেলা ১০:৪৫ টা হলেও অনেক কক্ষেই চিকিৎসকদের দেখা মেলেনি। অপেক্ষা করতে করতে অনেকে ক্লান্ত হয়ে মেঝেতে বসে পড়েছেন। অথচ হাসপাতালের অফিস কার্যক্রম শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে। তবে অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ চিকিৎসকই সেই সময় মেনে কক্ষে উপস্থিত হন না।
একই চিত্র দেখা গেছে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আমির-উল-মূলকের কক্ষের সামনেও। প্রতিদিন গড়ে প্রায় হাজারখানেক রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু চিকিৎসকদের দেরিতে আসার কারণে রোগীদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা রেশমা নামে এক নারী বলেন,“সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কাউন্টার থেকে টিকিট নিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে আছি। এখন প্রায় ১১টা বাজে, এখনও ডাক্তার আসেননি। বাসার কাছে হাসপাতাল হওয়ায় সবসময় এখানেই আসি। সরকারি হাসপাতাল বলে খরচও কম। তাই বাধ্য হয়েই অপেক্ষা করছি।”
রাকিব নামে এক বৃদ্ধ রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“ডাক্তার এখনো আসেন নাই। আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবো? বাইরে বসার সিট খালি না পেয়ে মেঝেতে বসে আছি। অসুস্থ শরীরে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব না। গরিব মানুষ, অন্য কোথাও চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই, তাই অপেক্ষা করছি।”
এ বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, অনেক সময় ওয়ার্ডে রোগী দেখা কিংবা জরুরি সার্জারির কারণে চেম্বারে আসতে দেরি হয়। বিশেষ করে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের অপারেশন থিয়েটারে ব্যস্ত থাকতে হয়। এছাড়াও হাসপাতালের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের কারণে নির্ধারিত সময়ে কক্ষে উপস্থিত হওয়া সবসময় সম্ভব হয় না বলে জানান তারা।
তবে রোগীদের দীর্ঘ ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।