
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল এর ওপর সংঘটিত আলোচিত পুলিশি হামলার ১৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামী ১৭ মে। ২০১২ সালের এই দিনে বিএনপির ডাকা হরতাল কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তিনি পুলিশের নির্মম লাঠিপেটার শিকার হন।
জানা যায়, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ সারাদেশে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ২০১২ সালের ১৭ মে হরতালের ডাক দেয় বিএনপি। ওইদিন সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল চলাকালে তৎকালীন সদর থানার দারোগা নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলে থাকা এটিএম কামালকে লক্ষ্য করে বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়। একপর্যায়ে মিছিলের ব্যানারে পেঁচিয়ে তিনি পড়ে গেলে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে দফায় দফায় মারধর করা হয়। হামলার দৃশ্য টেলিভিশন ও পরদিন বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত এটিএম কামাল দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত দারোগা নূর মোহাম্মদের একটি বক্তব্য সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সেখানে তিনি বলেন, “যা করেছি উপরের নির্দেশেই করেছি। আমার উপর নির্দেশ ছিল যেকোনোভাবেই হোক তাকে থামিয়ে দেওয়ার।”
এই ঘটনার প্রতিবাদে ওইদিনই জেলা ও মহানগর বিএনপি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে। পরদিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়।
ঘটনার স্মৃতিচারণ করে এটিএম কামাল বলেন, “হত্যার পরিকল্পনা নিয়েই পুলিশ আমার ওপর হামলা করেছিল। মাথায় একের পর এক আঘাতের পরও আল্লাহর অশেষ রহমতে সেদিন প্রাণে বেঁচে যাই। তবে মাথা ও কানে আঘাতের কারণে চোখসহ কিছু শারীরিক ক্ষতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “মৃত্যুকে কখনো ভয় পাইনি। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান এর নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন বাজি রেখে রাজপথে থেকেছি। শত নির্যাতন, জেল-জুলুম ও হামলা-মামলার পরও রাজপথ ছাড়িনি।”