
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশি কোনও জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকবে না বলে নিশ্চিত করেছে ইরান। যুদ্ধাবস্থায় যেন জ্বালানি সংকট না হয়, সে চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে যু্দ্ধের মধ্যেও বাংলাদেশকে স্বস্তির জায়গায় রাখার চেস্টা চলছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনাকে ইতিবাচক হিসাবে দেখার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেই জায়গাটা থেকে একটা আমি পজিটিভ দিক দেখি যে, ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র তারা অন্তত একটা নেগোসিয়েশনে বসতে রাজি হয়েছে। সেটা থেকে বোঝা যায় যে, তারাও চাচ্ছে যে যুদ্ধবিরতি হোক, বা যুদ্ধ বন্ধ হোক। আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার থেকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটা স্টেটমেন্ট করেছি যে, আমরা সাধুবাদ জানাই এই ধরনের ইনিশিয়েটিভকে; পাকিস্তানসহ অন্য দেশগুলো, যারা ইনিশিয়েটিভ নিয়েছে, তাদের এই পদক্ষেপকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমরা চাই যে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো, যারা এখানে স্টেকহোল্ডার, তারা আলোচনার টেবিলে বসুক, একটা সমাধান আসুক। এই আলোচনা চলছে কিন্তু। এই মুহূর্তে কোনো স্টেটমেন্ট বা কোনো মন্তব্য করা আমাদের ঠিক হবে না। আলোচনা চলছে। আমরা চাই যে, আলোচনাটা আরো বেগবান হোক এবং একটা রেজলুশন এখান থেকে আসুক। যদি না আসে, তাহলে তো আমি মনে করি যে, অবস্থা আরও অবনতির দিকে যেতে পারে, সারা পৃথিবীতেই। প্রত্যেকটা দেশই এখানে এফেক্টেড হবে, অর্থনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে, সব রকমভাবে। সেটা তো আমরা কোনোভাবেই চাই না।
ই
রানের উপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আটজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট থেকে আমরা ইতোমধ্যে আটজন নাগরিককে হারিয়েছি। সর্বশেষ লেবাননে আমাদের একজন নারীকর্মী নিহত হয়েছেন। সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রথম একজন নারী নিহত হল এই যুদ্ধে। তো আমরা তো অবশ্যই চাই যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ হোক। আমাদের বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যাতে আমাদের জ্বালানির কোনো স্বল্পতা না হয়, আমাদের দ্রব্যমূল্যের যেন ঊর্ধগতি না হয়, সেই দিকে কিন্তু সরকার সচেষ্ট আছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিহত আটজনের মধ্য পাঁচজনের মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে আনা হয়েছে। একজনকে বিদেশের মাটিতেই দাফন করা হয়েছে, কারণ মরদেহ ফেরত আনার মত অবস্থা ছিল না। আরেকজনের মরদেহ আনার চেষ্টা চলছে।
লেবাননে নিহত দীপালির মরদেহ আনতে সময় লাগার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেহেতু যুদ্ধাবস্থা চলছে, ওখানে ফ্লাইটে কোনো পথ নাই যে, আমরা আনতে পারব। সময় লাগবে আমাদের আনতে, সেই কাজটা আমরা করছি। লেবাননের সাথে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে, আমাদের মিশন লেবানন সরকারের সাথে যোগাযোগ করছে। এবং কীভাবে এটা আনা যায়, এটাতে হয়তো সময় লাগবে। খুব তাড়াতাড়ি আমরা আনতে পারব, তা না। লেবাননে এমনকি আমাদের মিশনের যারা কর্মরত আছে, তারাও ঝুঁকির মধ্যে আছে। তাদেরকে রিলোকেট করা হয়েছে অন্য জায়গায়, যাতে তারা আপাতত নিরাপদে থাকতে পারে। আমাদের বাংলাদেশিরা, আমরা যতদূর শুনেছি, এখন পর্যন্ত নিরাপদে আছে।
—এজেড