
নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আওয়ামীলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম মন্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ৬নং ওয়ার্ডের এসও রোড এলাকায় তার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। সিরাজুল ইসলাম মন্ডল বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও তিনি এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই সিরাজুল ইসলাম মন্ডল পলাতক ছিলেন বলে ধারণা করা হলেও সম্প্রতি তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে বিচরণ শুরু করেন। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা এবং চোরাই তেলের সিন্ডিকেট পুনরায় নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের বিরুদ্ধে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো এবং মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ৯টি ও যাত্রাবাড়ি থানায় একটি মামলা রয়েছে।
এছাড়াও গত ১৭ বছরে শামীম ওসমানের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের এসও এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম এবং অবৈধ জ্বালানি তেলের ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি যৌথবাহিনী তার গোডাউন থেকে ৯ হাজার ১০০ লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছিল।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “সিরাজুল ইসলাম মন্ডল একাধিক হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তদন্ত শুরু করি এবং আজ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডল গত ১৭ বছরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সহযোগী হয়ে পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। এলাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তিনি। এসও এলাকার মূল প্রবেশ দ্বারে তার কোটি টাকা মূল্যের জমি রয়েছে।
এছাড়াও মন্ডলপাড়া এলাকায় কয়েক কোটি টাকা খরচ করে দুটি ডুপ্লেক্স বাড়িসহ চারটি বাড়ি রয়েছে। স্বাদ রেস্টুরেন্টের সামনে তার রয়েছে কোটি টাকার বাড়ি। এর পাশেই রয়েছে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমিতে চোরাই তেলের গোডাউন। তেলের ব্যবসা পরিচালনা করতে তিনি নিজের বাড়ির নিচেই বানিয়েছেন তেলের গোডাউন। অথচ জ্বালানি তেলের ডিপোর গেট থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো জ্বালানি তেলের গোডাউন বা মজুদ করার গোডাউন না থাকার নির্দেশনা রয়েছে।
এছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক শ্যামস ফিলিং স্টেশন রয়েছে তার। রায়েরবাগ এলাকায় মহাসড়কের পাশে রয়েছে তার সান্টু ফিলিং স্টেশন। কাঁচপুরে রয়েছে এস এস ফিলিং স্টেশন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় অন্তত পক্ষে বারো থেকে ১৫টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে তার। সবই গেল ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে করেছেন তিনি। তার সম্পদ দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসবে আসল রহস্য।’
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের তথ্যমতে, এসও রোড এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীদের কাঁধে ভর দিয়ে সিরাজুল হত্যা মামলার আসামি হয়েও এলাকায় প্রকাশ্যে ছিলেন। এবং আওয়ামী লীগের কর্মীদের এলাকায় পুনর্বাসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি মেঘনা তেল ডিপো ঘিরে তার পুরনো চোরাই তেলের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।