
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামে অবস্থিত খড়িয়া তামিরুল মিল্লাত দাখিল মাদ্রাসায় এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৩ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। চোর চক্রের সদস্যরা এ সময় মাদ্রাসার নৈশপ্রহরীকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে অফিস কক্ষ থেকে মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যায়।
মাদ্রাসা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে ৫ থেকে ৬ জনের একটি মুখোশধারী যুবকের দল মাদ্রাসার গ্রিল বেয়ে দ্বিতীয় তলায় উঠে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। ভবনে ঢুকেই তারা কর্তব্যরত নৈশপ্রহরী আব্দুল মতিনকে জিম্মি করে ফেলে। এরপর তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলা হয়। চুরি শেষে পালিয়ে যাওয়ার আগে দুর্বৃত্তরা আব্দুল মতিনকে শারীরিকভাবে চরম নির্যাতন করে মেঝেতে ফেলে রেখে যায়।
নৈশপ্রহরীকে কাবু করার পর দুর্বৃত্তরা শিক্ষক মিলনায়তনের তালা ভেঙে মূল অফিস কক্ষে প্রবেশ করে। সেখান থেকে তারা একটি মনিটর, একটি প্রিন্টার, একটি ইউপিএসসহ আরও বেশ কিছু মূল্যবান মালামাল ও কাগজপত্র চুরি করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী ফজরের নামাজের পর আব্দুল মতিনের বাড়িতে ফিরে নিজের মুরগির খামারে খাবার দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল হয়ে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় তার স্ত্রী উদ্বিগ্ন হয়ে মাদ্রাসায় খোঁজ নিতে আসেন। সেখানে এসে তিনি স্বামীকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে নৈশপ্রহরীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার ও বাঁধনমুক্ত করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খড়িয়া তামিরুল মিল্লাত দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা হুমায়ুন কবির বলেন,
“গত রাতে মাদ্রাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। অফিস কক্ষ থেকে একটি মনিটর, একটি প্রিন্টার, একটি ইউপিএসসহ আরও কিছু মালামাল চুরি হয়েছে। নৈশপ্রহরী চোরদের কাউকেই চশক্ষুস শনাক্ত করতে পারেননি, কারণ তারা মুখোশ পরা ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন।