
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারীর বাড়িতে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন রূপসী এলাকার বাসিন্দা মাসুদা বেগম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বিদেশফেরত মিলন ভূঁইয়ার কাছ থেকে তিনি পৈতৃক ২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তবে জমি বিক্রির কয়েকদিন পরই মিলন ভূঁইয়া জমিটি ফেরত চেয়ে মূল্য ও রেজিস্ট্রি খরচ পরিশোধের আশ্বাস দেন। মানবিক কারণে তিনি এতে সম্মত হলেও দীর্ঘ সময় পার হলেও টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করলে জমি নিয়ে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
মাসুদা বেগমের অভিযোগ, গত ৬ জুন বিকেল ৩টার দিকে মিলন ভূঁইয়া ওরফে চাকু মিলনসহ ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল তার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা গেট ও ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে তার স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। হামলায় তার স্বামীর বাম হাত ভেঙে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ঘরের আলমারি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় তাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়। এছাড়া একজন ভাড়াটিয়াকেও মারধর করে আহত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা গ্যাস সিলিন্ডারের সংযোগ খুলে আগুন লাগিয়ে পুরো পরিবারকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করে।
মাসুদা বেগম অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রথমে অভিযোগ দিতে বললেও পরবর্তীতে থানায় মামলা গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে তিনি নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর. মামলা (নং-৮৫৮/২০২৬) দায়ের করেছেন। বর্তমানে অভিযুক্তদের হুমকির কারণে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। থানায়ও একটি অভিযোগ জমা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।