
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি ওয়াদা দিয়েছিল ৩১ দফা সংস্কারের কথা, যার প্রথম দফাই ছিল সংবিধান সংস্কার। এখন তারা তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা বলেছিল স্থানীয় সরকার পর্যায়ে কোনো অনির্বাচিত প্রতিনিধি মানবে না। অথচ এখন সব জায়গায়— বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে ক্রিকেট বোর্ড, জেলা পরিষদ, বিশ্ববিদ্যালয়— সব জায়গায় দখলদারি শুরু হয়েছে। তারা আবার সেই একদলীয় শাসন জনগণের ঘাড়ে চাপাতে চায়।
সোমবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ,বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
জুলাই শহীদ পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন শহীদ আলিফের বাবা গাজিউর রহমান, শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া, শহীদ মেহেরুন নেসার বাবা মোশাররফ হোসেন, আহত জুলাই যোদ্ধা কামরুল আহসান, শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা জামাল হোসেন, জুলাই যোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি, শহীদ ইসমাঈল হোসেনের স্ত্রী লাকি বেগম, শহীদ জাবের ইব্রাহিমের বাবা কবির হোসেন এবং ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর নিহত গোলাম কিবরিয়া শিপনের বাবা তাজুল ইসলাম।
জামায়াতের আমির বলেন, যেদিন আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বের হয়ে আসি, সেইদিন সত্যিকার অর্থে ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। আমরা তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলাম। গণভোটের রায় অমান্য করার দিনও আমরা ওয়াকআউট করে বলেছি— সংসদে সমাধান হয়নি, যেই জনগণ রায় দিয়েছে আমরা এখন সেই জনগণের কাছে ফিরে যাচ্ছি। গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন— যা মানুষের জীবনের সঙ্গে এবং নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত, সেই সবকিছু তারা গায়ের জোরে প্রত্যাখ্যান করল। ৪০ মিনিটের ডিবেটে যখন বুঝতে পারলাম যে তারা বিচার মানে কিন্তু তালগাছ ছাড়বে না, তখনই আমরা ধিক্কার এবং নিন্দা জানিয়ে সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছি।
তিনি বলেন, সর্বশেষ জুলাই জাদুঘর নিয়ে কি হয়েছে দেখেন! এই জাদুঘরটা হবে জাতির সম্পদ। ঐকমত্য পরিষদে এবং বিশেষ কমিটিতে সবাই একমত হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ সংসদের ভেতরে সমস্ত রীতিনীতি ভঙ্গ করে সরকারি দল এটাকে দলীয়করণ করার জন্য সংশোধন দিয়ে বসল। তারা বলল এটা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে। আমরা প্রতিবাদ করে বললাম— এটি কোনো সাধারণ জাদুঘর নয়, এটা গোটা জাতির ‘৪৭ থেকে শুরু করে ‘২৪ পর্যন্ত ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। এটাকে রাজনীতিকরণ করবেন না। সেই যন্ত্রণা ও ঘৃণা নিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি, আমরা কথা দিচ্ছি, যতদিন সংসদের ভেতরে লড়াই করতে পারব ততদিন থাকব, এর বাইরে এক মিনিটও থাকব না। রাজপথ আমাদের মূল ঠিকানা। সংসদে এই দেশের মানুষ পরিবর্তনের আশায় আমাদের পাঠিয়েছে। সেই পরিবর্তন যদি না করতে পারি, তবে সেই সংসদ দিয়ে আমাদের কাজ নেই।
তিনি আরও বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বশেষ বয়সসীমা নিয়ে সংসদে আলোচনার দিন সেখানে মব সৃষ্টি করা হয়েছে। বিএনপি সরকার কিছু লোককে জুলাই যোদ্ধা পরিচয়ে দর্শক গ্যালারিতে বসিয়েছিল। আলোচনার এজেন্ডা যখন আসল, তখন সরকারি দল থেকে তাদের ইশারা দেওয়া হলো। বোঝা গেল, এটা পাতানো। এর আগে কয়েকটা বিল পাস হয়েছে, যার কাগজপত্র বিরোধী দলকে দেওয়া হয়নি। তারা বিরোধী দলকে অন্ধকারে রেখে ব্ল্যাকমেইলিং করতে চেয়েছিল, তবে বিরোধী দল তাদের পাতা ফাঁদে পা দেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার যেসব সংশোধনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, সেই জায়গাগুলোই বিএনপি এখন রেখে দিতে চায়। এর মাধ্যমে বিএনপি আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। সেটি হতে দেওয়া হবে না।
—এজেড