
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রশ্ন রেখে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন। কিন্তু তার নিজের মন্ত্রিসভা এবং দলে যে সংসদ সদস্য রয়েছেন, তারা ঋণগ্রস্ত। তারা কবে ঋণ পরিশোধ করবেন? বাংলাদেশের মানুষ সেটা জানতে চায়। সেই ঋণ পরিশোধ করে তারপরেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত। কারণ, দুর্নীতির প্রতিরোধ আসলে নিজের ঘর, নিজের দল এবং মন্ত্রিসভা থেকে করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বাভাবিকভাবে আমরা আশা করেছিলাম যে, নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তী যে মন্ত্রিসভা গঠিত হবে, তা নতুন বাংলাদেশের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। কিন্তু এই মন্ত্রিসভা দেখে আমাদের কাছে কোনোভাবে মনে হয়নি পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা, সে আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বরং আমরা পুরোনো বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতা দেখতে পাচ্ছি। এই মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি। ২৫টি জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি। অর্থাৎ এখানে একটা আঞ্চলিক বৈষম্য রয়েছে স্পষ্টভাবে। এ মন্ত্রিসভা অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রতিনিধিত্বশীল হয়নি। এই মন্ত্রিসভায় কিছু তরুণদেরকে নেওয়া হলেও কিন্তু মন্ত্রিসভার গড় বয়স কিন্তু ৬০ বছর। অর্থাৎ আমরা যে তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশের কথা বলেছি, তার প্রতিফলন এই মন্ত্রিসভায় দেখতে পাইনি।
তিনি বলেন, এই মন্ত্রিসভার প্রায় ৬২ শতাংশ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা ব্যবসায়ী। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি হচ্ছে ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী হওয়াটা অপরাধ নয়। কিন্তু মন্ত্রিসভা প্রতিনিধিত্বমূলক হওয়া উচিত। রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ থাকা উচিত। কিন্তু যখন অর্ধেকেরও বেশি ব্যবসায়ীদেরকে মন্ত্রিত্ব দিবেন, তারা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করবে। জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে না। এই ব্যবসায়ীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য আছেন, যাদের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির নমিনেশনে দেওয়ার ক্ষেত্রে যেমন আমরা কোনো নতুনত্ব পাইনি, এই মন্ত্রিসভা গঠনেও আমরা কোনো নতুনত্ব পাইনি। খেলাপিদের মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সময় বিএনপিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমি নাম না নিয়ে যদি বলি, সবচেয়ে বড় বাজেটের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে এমন একজনকে দেওয়া হলো, যিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং হত্যা মামলার আসামি। দলেও তিনি অতগুরুত্বপূর্ণ কেউ না। শুধুমাত্র আর্থিক ব্যাবসায়িক এবং দুর্নীতির কারণেই তাকে সে মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে। এরকম আরও ঋণখেলাপি রয়েছে যাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে। বিএনপির প্রায় ৬২ শতাংশ নির্বাচিত সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি। এসব সংসদ সদস্যদের ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক ব্যক্তিকে বিদেশ থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল। আমরাও দেশের স্বার্থে বিশেষজ্ঞদের ব্যবহার করতে চেয়েছি; যাতে দেশ এবং সরকার উপকৃত হয়। এখন সেই বিশেষজ্ঞদেরকে যদি ব্যবহার করতে হয়, সেটা সমস্যাজনক নয়। কিন্তু এটা অবশ্যই একটা ঐকমত্যের ভিত্তিতে হতে হবে। কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই যদি অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন, এমন একজনকে যদি নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়, তাহলে জনমনে এই প্রশ্ন আসবে। আমরা আশা করব যে, এই প্রশ্নের সুরাহা প্রধানমন্ত্রী করবেন।
তিনি নাহিদ বলেন, গত দুই একদিন ধরে দেশে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগদেরকে পুনর্বাসনের একটা প্রচেষ্টা চলমান আছে। বিভিন্ন জেলা–উপজেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে খুলে দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ কার্যত এবং আইনতভাবে নিষিদ্ধ একটি সংগঠন। তার বিচার প্রক্রিয়া চলমান আছে। এই যে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলো খোলা হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, আমরা মনে করি, নতুন সরকারের প্রশাসনের এবং সরকারি দলের প্রশ্রয়ে এটা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে সিগন্যাল ছাড়া আওয়ামী লীগ এটা করার সুযোগ বা সাহস পেত না।