
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন ঘটনার এক যুগপূর্তি হলেও আদালতের রায় কার্যকর হয়নি। রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে ও দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালত চত্বরে আইনজীবী এবং সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে নিহত পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী পৃথক মানববন্ধন করেছে।
আইনজীবীদের মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য যুগ্ম সদস্য সচিব ও শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন ও সাত খুন মামলার প্রধান আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবীরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন প্রধান, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মো: আবুল কালাম আজাদ জাকির সহ নেতৃবৃন্দ।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মৌচাক এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে নিহত পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী একটি মানব বন্ধন করেছে। তারা বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবী জানিয়ে বলেন, দ্রুত এ মামলার রায় কার্যকর হলে নিহতের আত্না সহ সবাই শান্তি পাবে। মানববন্ধনে পরিবারের সদস্যরা কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ৭ খুন ঘটনার চার মাস পর জন্ম হওয়া শিশু ও এখন তার বাবা হত্যার বিচার চায়।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকা থেকে অপহরণ করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবি চন্দন সরকারসহ সাতজনকে। অপহরণের তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর বন্দরের শান্তিরচর থেকে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও আইনজীবি চন্দন কুমার সরকার তাঁর গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম সাত জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।