
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একতা ধ্বংস হলে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা বাড়তে পারে। দেশের মানুষের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবাই দেশে নির্বাচন দেখতে চায়। যারা সরকার ও জনগণকে জিম্মি করবে, তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে৷
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকায় নবনিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লেটের সঙ্গে বৈঠকের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশেষ সহযোগী উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ।
দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, কোনো দলের কর্মসূচির সঙ্গে নির্বাচন ঘোলাটে হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। এতে নির্বাচনী কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে না৷ যারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না, তারা এ ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে। তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য নির্বাচন কার্যক্রম বিনষ্ট হবে না, নির্বাচন পেছাবে না। জনগণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরতে অপেক্ষায় আছে। যারা অপচেষ্টা করছে, তারা নির্বাচন চায় না। কোনো দলের অধিকার নেই সরকারকে বা জনগণকে জিম্মি করে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া। যারা সরকারকে জিম্মির দিকে নিয়ে যাবে, তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে৷ যারা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে, তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
আমীর খসরু বলেন, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে দেশটির সঙ্গে শিল্প খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার আসলে বিদেশি রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক কেমন হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ- এসব বিষয় ছাড়াও ক্রিয়েটিভ সেক্টর নিয়েও ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এমন ঘটনাবলি নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ‘রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য যৌথ প্রকল্প ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগগুলোর কথাও উল্লেখ করেছেন।’ রাষ্ট্রদূত আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, যত তাড়াতাড়ি নির্বাচন হবে, তত তাড়াতাড়ি ফ্রান্স সম্পর্ক উন্নয়নে এগিয়ে আসবে।