
ফতুল্লায় চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত আল আমিন ইসলাম শুভ ওরফে লাল শুভ (২৪)কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ। সে মামলার ১০ নাম্বার আসামি। সোমবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন করা হয়। লাল শুভকে ৬ এপ্রিল রাতে র্যাব-১১ এর সহযোগিতায় নীলফামারী জেলা থেকে গ্রেফতার করে র্যাব-১৩। পরে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করে র্যাব।
মামলার এজাহার ও পুলিশি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহত শুভ (২১) পূর্বে এসি মেকার হিসেবে কাজ করতেন। তবে গত কয়েক মাস ধরে তিনি স্থানীয় কিছু বখাটে যুবকের সঙ্গে মিশে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে বিরোধও চলছিল।
ঘটনার প্রায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে প্রধান আসামী সাখাওয়াত ইসলাম রানার সঙ্গে শুভর বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৯ মার্চ বিকেলে নিহত শুভ সিদ্ধিরগঞ্জে তার শ্বশুরবাড়িতে যান। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে এক আসামীর ফোন পেয়ে তিনি ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইর রেললাইন এলাকায় যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেখানে পৌঁছালে গ্রেফতারকৃত আসামীসহ অন্যান্যরা তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
পুলিশ জানায়, মারধরের একপর্যায়ে শুভ গুরুতর আহত হয়ে পড়লে তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় প্রধান আসামী রানা নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ৩০ মার্চ রূপগঞ্জ থানাধীন কাঞ্চন এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ের পাশে একটি খাদে থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা হয়। পরে নিহতের পরিবার ছবি দেখে মরদেহটি শুভর বলে শনাক্ত করে।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, আসামী লাল শুভ ঘটনার বিষয়ে অসংলগ্ন ও পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামীদের সনাক্ত ও গ্রেফতার, এবং নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামীকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
এ কারণে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে আসামীর ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন জানিয়েছেন।