
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বেইজিংয়ে এক সামরিক কুচকাওয়াজের ফাঁকে অমরত্ব ও অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে জীবন দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে আলোচনা করতে শোনা গেছে। চীনের সামরিক কুচকাওয়াজের সময় একটি ‘হট মাইক’-এ আলাপ রেকর্ড হয়েছে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) কুচকাওয়াজের সময় ঘটনাটি ধরা পড়ে চীনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারে, যখন শি, পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন চীনের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে হাঁটছিলেন। সামরিক কুচকাওয়াজ দেখার জন্য পুতিন, শি এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন যখন তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন পুতিনের দোভাষীকে সর্বশেষ চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
দোভাষীকে বলতে শোনা যায়, ‘জৈবপ্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে।‘ এরপর কিছু কথোপকথন অস্পষ্ট ছিল। তারপর দোভাষী এই বলে উপসংহার টানেন— ‘মানব অঙ্গ বারবার প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। যত বেশি বাঁচবেন, ততই তরুণ হবেন, এমনকি অমরত্বও অর্জন করা যেতে পারে।‘ পাশে থাকা চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে হেসে উত্তর দেন, ‘অনেকে তো বলছে, এই শতাব্দীতে মানুষ হয়তো ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচবে।‘
পুতিন বহুদিন ধরেই দীর্ঘায়ু ও বার্ধক্য রোধের বিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহী। তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা মিখাইল কোভালচুক নাকি এই বিষয়ে ‘আসক্ত’। গত বছর কোভালচুক নাকি বার্ধক্য রোধের ওষুধ তৈরি করতে এবং থ্রিডি বায়োপ্রিন্টিং-এর মতো প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করতে বিজ্ঞানীদের বলেছেন। যাতে একদিন কৃত্রিমভাবে অঙ্গ ‘প্রিন্ট’ করা সম্ভব হবে। চীনের সঙ্গে এ নিয়ে পুতিনের আলোচনা কেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে চীনের অঙ্গ প্রতিস্থাপন কর্মসূচির ইতিহাস দীর্ঘ এবং বিতর্কিত—বিশেষত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের অঙ্গ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে। এ ধরনের কর্মসূচি অর্থের বিনিময়েও হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
শি টানা ১৩ বছর ও পুতিন ২৫ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন। দুজনের কেউই এখনন পর্যন্ত পদ ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি। পুতিন ও শি দুজনেরই বয়স ৭২। তারা ক্ষমতা ছেড়ে দিতে আগ্রহী নন এবং উত্তরসূরি সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা দেননি। তাই দীর্ঘায়ু তাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অন্যদিকে কিম জং উন এখনো ৪১ বছরের তরুণ। তিনি এই আলোচনায় সরাসরি অংশ না নিলেও ভিডিওতে তাকে হাসতে দেখা গেছে।
পুতিন ও শি দুজনেরই পারিবারিক দিক থেকে দীর্ঘায়ুর জিন আছে। তাদের দুইজনের বাবাই বেঁচেছিলেন ৮০ বছরের বেশি। এই কথোপকথন সরাসরি সম্প্রচার করা টেলিভিশন ফিডে ধরা পড়ে এবং প্রচারিত হয় চীনের বিভিন্ন চ্যানেলে। তবে তিয়ানআনমেন স্কয়ারের বিশাল পর্দায় তা শোনা যায়নি। শি’র উত্তরের সময় সম্প্রচার ফিড কেটে দৃশ্য অন্যদিকে সরিয়ে নেয়া হয়।
এদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, শি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের সঙ্গে। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উনকে আমার শুভেচ্ছা পৌঁছে দিন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন।’