
চীনা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লাইসেন্সধারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় চার সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া তিনটি অস্ত্র, ৩৮ রাউন্ড গুলি, একটি মাইক্রোবাস, ওয়াকিটকিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।
তিনি জানান, বুধবার (২৪ জুন) ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর ভাটারা, বাড্ডা ও বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া দুটি শর্টগান, একটি এয়ারগান, শর্টগানের ৩৮ রাউন্ড গুলি, একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস এবং একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, সংঘবদ্ধ প্রতারক ও অস্ত্র ছিনতাইকারী চক্রটি বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে চীনা প্রতিষ্ঠান ও ভিআইপি ব্যক্তিদের নিরাপত্তারক্ষী পদে উচ্চ বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিত। এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তারা অস্ত্রের লাইসেন্সধারী ব্যক্তিদের টার্গেট করত।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, চাকরিপ্রার্থীরা নিজেদের লাইসেন্সকৃত অস্ত্র নিয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে চক্রের সদস্যরা তাদের ভুয়া নম্বরপ্লেটযুক্ত একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পরে চোখ ও মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাদের রূপগঞ্জের ১০০ ফুট ও ৩০০ ফুট সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ১৭ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত একই কৌশলে সংঘটিত চারটি পৃথক ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় তিনটি এবং ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদনসহ তাদের পাঠানো হয়েছে।
তিনি সাধারণ জনগণকে অনলাইনে চাকরির প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার এবং অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।