• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন |
  • English Version
ব্রেকিং নিউজঃ
মনোহরদীতে খাঁড়াব মুন্সিবাড়ী প্রবাসী সংগঠনের উদ্যোগে এসএসসি ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা মনোহরদী পৌরসভায় মাদকবিরোধী অভিযান, মাদকসেবীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড মনোহরদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩০০ লিটার চোলাইমদসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার মনোহরদীতে ডিমবোঝাই পিকআপ ডাকাতি: আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার মনোহরদীতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা মনোহরদীতে জমি বিরোধের জেরে গাছপালা ও বাঁশঝাড় কাটার অভিযোগ মনোহরদীতে পল্লী চিকিৎসক সমিতির উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত। মনোহরদীতে,স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে মনোনয়ন দেওয়া হবে :স্বাস্থ্য মন্ত্রী মনোহরদীতে নজরুল বর্ষ-২০২৬ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন মনোহরদীতে গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

লিবিয়ার জাহান্নাম পেরিয়ে ইতালির স্বপ্নপূরণ: বুলবুলের সংগ্রামী জীবনের গল্প

Reporter Name / ৩০৬ Time View
Update : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন
Oplus_131072

লিবিয়ার জাহান্নাম পেরিয়ে ইতালির স্বপ্নপূরণ: বুলবুলের সংগ্রামী জীবনের গল্প
মো হিমেল মিয়া।
মনোহরদী নরসিংদী।
নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার খিদিরপুর ইউনিয়নের বীর আহম্মদপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বুলবুল আজ অনেকের কাছেই এক জীবন্ত অনুপ্রেরণার নাম। পাঁচ ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে তৃতীয় সন্তান বুলবুলের জীবন শুরু থেকেই ছিল কষ্টে ঘেরা।
নিজ গ্রামেই তার বেড়ে ওঠা। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে সাগরদী বাজারসংলগ্ন আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে। ছোটবেলা থেকে সে ছিল ডানপিটে ও চঞ্চল প্রকৃতির। বেকার অবস্থাতেই পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় মনোহরদী থানার ডোমনমারা গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে। বিয়ের পর প্রথম চার-পাঁচ মাস ভালোই চলছিল তাদের সংসার। তবে এরপরই শুরু হয় পারিবারিক অশান্তি।
বুলবুলের স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মানসিকভাবে চাপ দিতে থাকে। মূল অভিযোগ ছিল—সে কেন ইতালিতে যেতে পারেনি। এই বিষয়টি নিয়ে তাকে নানা কটূ কথা ও অপমান সহ্য করতে হয়। এক পর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার স্ত্রীকে নিয়ে যায় এবং তাদের প্ররোচনায় বুলবুলের স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দেয়।
ডিভোর্সের পর বুলবুল মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। হতাশা তাকে গ্রাস করে নেয়, এমনকি একসময় সে অস্বাভাবিক আচরণও করতে শুরু করে। স্ত্রীর চলে যাওয়ার একমাত্র কারণ ছিল তার বেকারত্ব এবং বিদেশে, বিশেষ করে ইতালিতে যেতে না পারা।
তবুও হাল ছাড়েনি বুলবুল। দেশে থেকেই বারবার চেষ্টা চালায় ইতালিতে যাওয়ার জন্য, কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সে পাড়ি জমায় লিবিয়ায়। সেখানে শুরু হয় তার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়। প্রায় ছয় মাস সে বন্দী অবস্থায় ছিল। নির্মম নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে তাকে। খাবার হিসেবে মাসে মাত্র একটি রুটি জুটত। বুলবুলের ভাষায়, “লিবিয়ার জীবন ছিল আমার জন্য একেবারে জাহান্নাম।”
দীর্ঘ কষ্ট, নির্যাতন ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে মুক্তি মেলে তার। সব বাধা পেরিয়ে বুলবুল পৌঁছে যায় তার স্বপ্নের দেশ ইতালিতে। বর্তমানে সেখানে সে ভালো আছে এবং নতুন করে জীবন গুছিয়ে নিচ্ছে।
যে ইতালিতে যেতে না পারার কারণে তার প্রিয়তম স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল, আজ সেই ইতালিতেই নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছে বুলবুল। তার এই সংগ্রামী জীবন অনেক তরুণের জন্যই সতর্কবার্তা ও অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকল।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category