• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন |
  • English Version
ব্রেকিং নিউজঃ
মনোহরদীতে এসএসসি ও জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৮৭ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা মনোহরদীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, ফায়ার সার্ভিসের মহড়া মনোহরদীতে ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত মনোহরদীতে বজ্রপাত মোকাবিলায় ২ হাজার তালবীজ রোপণ বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস: সীমাবদ্ধতা নয়, সম্ভাবনাই হোক পরিচয় মনোহরদীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান মনোহরদীতে ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি রুদ্র গ্রেপ্তার মনোহরদীতে কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ সম্প্রচার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত মনোহরদীতে জমি বিরোধে বৃদ্ধ নিহত, হত্যা মামলার আসামি ইয়াসিন গ্রেপ্তার মনোহরদীতে মানিক মাস্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন

মার্কিন সহায়তা বন্ধের আদেশ, বাংলাদেশে কতটা প্রভাব পড়বে?

Reporter Name / ৩১৯ Time View
Update : সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন

[ad_1]

বিদেশে মার্কিন সহায়তা স্থগিত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের প্রভাব অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। দেশটির অর্থায়নে চলমান প্রকল্পের কাজ বন্ধ বা স্থগিত করা হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মীদের হোম অফিস করার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্বজুড়ে বৈদেশিক সহায়তায় পরিমাণের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সাহায্যের জন্য দেশটি ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছে। কিন্তু আমেরিকা ফার্স্ট নীতিকে প্রাধান্য দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় যাওয়ার প্রথম দিনেই প্রায় সব বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি স্থগিত করার নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। শুধু ইসরায়েল ও মিশরকে এর বাইরে রাখা হয়েছে।

আপাতত তিন মাসের জন্য এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে বিবিসি। সহায়তার আওতায় থাকা প্রকল্পগুলো বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা এই সময়ের মধ্যে পর্যালোচনা করে দেখা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বৈদেশিক সহায়তা সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশকে প্রতিবছর দেওয়া সহায়তার পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। এর আগের বছরগুলোতে ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ।

সর্বশেষ ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৯০ মিলিয়ন ডলার। ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট বা ইউএসএইড এর তথ্য বলছে, এই অর্থ যেসব খাতে ব্যবহৃত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, গণতন্ত্র ও শাসনব্যবস্থা, পরিবেশ ও জ্বালানি এবং মানবিক সহায়তা। এছাড়া রোহিঙ্গাদের জরুরি সহায়তার জন্যও এতে বরাদ্দ ছিল।

তিন মাসের জন্য অন্যান্য সহায়তা প্রকল্পগুলো থমকে যাওয়া বাংলাদেশের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে? এতে কারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তা নিয়েও নানা ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে।

ইউএসএইডের কার্যক্রম
জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংকের মতো বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমেও বিভিন্ন দেশে সহায়তা দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশটির সহায়তার উল্লেখযোগ্য অংশ আসে ইউএসএইডের মাধ্যমে।

বাংলাদেশে এই সংস্থাটির কার্যক্রমের মূল ক্ষেত্রগুলো হলো-

খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি
বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউএসএইডের পক্ষ থেকে প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য প্রাপ্তির সুযোগ মেলে প্রকল্পের আওতাধীন প্রান্তিক মানুষের। এছাড়া জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়নেও সহায়তা করে তারা। দক্ষিণাঞ্চলে ২৩টি জেলায় এমন প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছিল বলে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।

গণতন্ত্র মানবাধিকার ও শাসন
বাংলাদেশে সুশাসন ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতেও ইউএসএইডের বিভিন্ন প্রকল্প চলমান ছিল। সংস্থাটির মতে, সরকারের প্রতি নাগরিকদের আস্থা বাড়াতে এবং মানবাধিকার রক্ষায় সহায়ক এসব প্রকল্প।

পরিবেশ ও জ্বালানি
পরিবেশ ও জ্বালানি প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা উন্নয়নে কাজ করার কথা বলছে ইউএসএইড। যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তা করে।

স্বাস্থ্যসেবা
মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে এবং সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ইউএসএইড। এই প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে সহায়তা করে বলে দাবি তাদের।

শিক্ষা
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে ইউএসএইডের কর্মসূচি পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের উন্নত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজ করে তারা।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সহায়তা
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তায় ভূমিকা পালন করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থাগুলো। শরণার্থীদের জন্য খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকে তারা।

প্রকল্প বন্ধ ও স্থগিত করেছে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা
কর্মসূচির ব্যাপ্তি ও বিপুল কর্মীসংখ্যার কারণে বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি ও অলাভজনক উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে পরিচিত ব্র্যাক। বাংলাদেশ ভিত্তিক সংস্থাটির কাজ রয়েছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পর বাংলাদেশসহ মোট চারটি দেশে নয়টি কর্মসূচি স্থগিত করেছে সংস্থাটি।

এছাড়া ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান ও লাইবেরিয়াতে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের চলমান তিনটি প্রজেক্টও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এসব প্রকল্প থমকে যাওয়ার কারণে অন্তত সাড়ে তিন লাখ মানুষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তহবিলের ওপর নির্ভরশীল আরেকটি উন্নয়ন সংস্থার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেন, তাদের দুইটি প্রকল্প আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কয়েকজনকে হোম অফিস করতে বলা হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই একটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সবার মধ্যে।

পরিস্থিতি কতটা গুরুতর?
বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকেই প্রান্তিক পর্যায়ের কর্মতৎপরতা চালিয়ে আসছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো। বিদেশি অর্থায়নে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করে তারা। এসব প্রকল্পে ক্রমশ বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন।

এই অর্থায়ন বন্ধ হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং ছোট ছোট উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে সরাসরি আঘাত আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তিন মাস নিলেও, বাংলাদেশের জন্য এখনই একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জলবায়ু বা জেন্ডারের মতো ইস্যুতে ট্রাম্পের যে অবস্থান, তাতে রিভিউর পরও এই সংক্রান্ত সহায়তার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম।

প্রান্তিক মানুষের জীবনমানের অবনমন হলে তা আঞ্চলিক এমনকি বৈশ্বিক পর্যায়েও অশান্তির কারণ হতে পারে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। এটা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকেই বিঘ্নিত করবে। এই পর্যায়ের মানুষের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়লে তা দেশের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করতে পারে বলেও মনে করেন তারা।

[ad_2]


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category