
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ভূমিকম্প থেকে জনগণকে রক্ষায় সরকারের এখনই জরুরি ভিত্তিতে করণীয় ঠিক করা উচিত। এখন থেকে যদি আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে অর্থাৎ সরকারে যারাই আছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন, তাহলে পুরান ঢাকার যে বিল্ডিংগুলোর কথা মনে মনে চিন্তা করেন, আর তুরস্কে বা ইরানে যে ভূমিকম্প হয় বা আফগানিস্তানে যে ভূমিকম্প হয় সেটার চিন্তা করেন। আর আজকে সকালে ভূমিকম্পে নিশ্চয়ই ভাবার কোন কারণ নেই যে আমরা খুব আরামে থাকার সম্ভাবনা আছে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ঢাকাসহ সারা দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মাত্রা ছিলো ৫ দশমিক ৭। মৎস্যজীবী দলের উত্তরের আহ্বায়ক আমির হোসেন আমিরের সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণের সদস্য সচিব কে এম সোহেল রানা ও উত্তরের সদস্য সচিব বাকি বিল্লাহ‘র সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় মৎস্যজীবী দলের সদস্য সাবেক সচিব আবদুর রহিম, দক্ষিণের আহ্বায়ক শাহ আলমসহ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। হঠাৎ করে ভূমিকম্প শুরু হলে আলোচনা সভার নেতা-কর্মীরা দ্রুত মিলনায়তন থেকে বেরিয়ে আসেন।
জাহিদ হোসেন বলেন, আপনারা জানেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হচ্ছে ব্রাজিলে এবং সারা পৃথিবীর যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী যেসব উন্নত দেশ তাদের রেসপন্ড ঠিক ততটুকু নেই। যার জন্য ইদানিং দেখবেন বাংলাদেশে কখনো দেখা যাচ্ছে শীত খুব লম্বা হচ্ছে, কখনো গরম বেশি, কখনো কখনো আমাদের নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। কাজেই সার্বিকভাবে আমি সরকারকে এবং সেই সাথে সচেতন সকল মানুষকে এবং এটার সাথে বিশেষ করে জিওলজিক্যাল সার্ভে এবং যারা বিল্ডিংয়ের ডিজাইন এন্ড প্লানিং করেন সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়, দিস ইজ রাইট টাইম। আর বেশি দেরি করলে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যেতে পারে, তার থেকে যাতে কম ক্ষয়ক্ষতি কীভাবে করা যায় সেই উদ্যোগ নেয়া উচিত।
জাহিদ আরও বলেন, সেই পুরনো আগুন সন্ত্রাসের কথা অনেকের মনে আছে, শেরাটন হোটেলের সামনে দ্বিতলা বিআরটিসি বাসে গানপাউডার দিয়ে ১১ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল ১৭৪ দিন হরতাল করে। সেই সময়ে যারা এটা করেছিল, তারাই দেখেন আজকে বিচারের রায় হবে, সেটার আগে এবং পরে বিভিন্নভাবে দেশের মধ্যে সেই পুরনো আগুন সন্ত্রাসকে নিয়ে তারা আবার মাঠে নেমেছে। কাজেই জাতি ৫ আগস্টের পরে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ ছিল আজকে যদি আমাদের মধ্যে বিভাজন হয় তাহলে লাভ হবে কাদের? লাভ হবে ওই পতিত বা পলায়নকৃত স্বৈরাচারের দোসরদের। ওই ফাঁক দিয়ে আমাদের ঐক্য যদি বিনষ্ট করতে পারে, সেই ফাটল দিয়ে ঢুকে পড়তে চেষ্টা করবে পতিত স্বৈরাচার। স্বৈরাচার পালিয়েছে, তাদের দোসররা কিন্তু আছে। মনে রাখতে হবে আপনার আমার আশেপাশের মানুষগুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে হবে তারা কি করছে? তারা কি আচরণ করছে? নির্বাচনের জন্য জনগণের রায় নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।