
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আলাদা দুটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ভোর রাতে ফতুল্লার ভূইগড় পূর্বপাড়া এলাকায় আল আকসা মসজিদ রোডে ব্যবসায়ী আমজাদ ও কুদ্দুস মিয়ার বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
দুই বাড়ি থেকে ৯ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং দুটি দামি মোবাইল ফোন ডাকাতরা লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আমজাদ মিয়া জানান, তিনি ইলেট্রনিক পণ্যের ব্যবসা করেন। ঈদের ছুটিতে শ্যালক হাফেজ সাইফুল্লাহকে বাসায় রেখে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে বাসায় ফিরে এসে দেখেন শ্যালক সাইফুল্লার হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে আছেন। পরে বাঁধন খুলে দিলে সাইফুল্লাহর কাছ থেকে জানতে পারেন ভোর রাতে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সের ১৫ থেকে ১৮ জনের একদল ডাকাত রাম দা হাতে বাড়ির গেইটের তালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে। এরপর ডাকাতরা ধারালো অস্ত্রের মুখে সাইফুল্লাকে জিম্মি করে তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে ঘরের আলমারি ভেঙ্গে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরে আমজাদ মিয়ার বাসা থেকে বের হয়ে ডাকাত দল পাশের বাড়ি কুদ্দস মিয়ার বাড়িতে হানা দেয়।
কুদ্দুস মিয়ার ছেলে জোবায়ের হোসেন জানান, দেশীয় অস্ত্র হাতে ডাকাতরা দেয়াল টপকে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর গেইটের তালা ভেঙ্গে ঘরে এসে প্রথমে তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর ডাকাত দল তার বাবা ও মাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বলে তোমাদের ছেলেকে আমরা জিম্মি করেছি। কোনো ধরণের চিৎকার করলে তোমার ছেলেকে হত্যা করা হবে।
জোবায়ের হোসের আরও বলেন, ডাকাতদের ভয়ে আমার বাবা-মা তখন চুপ করে থাকেন। এরপর ডাকাতরা ঘরের আলমারি ভেঙ্গে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। পরে আমরা চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে আমাদের উদ্ধার করেন।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, ডাকাতির খবর পেয়ে দুই বাড়িতে গিয়ে ঘটনা সম্পর্কে অবগত হই। তারা লিখিত অভিযোগ দিলে মামলা গ্রহণ করা হবে। তবে ডাকাতদের শনাক্ত করতে ও লুণ্ঠিত সম্পদ উদ্ধারে এরইমধ্যে থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে।