• বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন |
  • English Version

দূর্নীতি ও অনিয়মের ১২ অভিযোগে গয়েশপুর পদ্মলোচন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

Reporter Name / ২৪৫ Time View
Update : বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন


নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গয়েশপুর পদ্মলোচন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আল মামুন মিয়া গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে দীর্ঘ তদন্ত ও অভ্যন্তরীণ অডিটে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও অডিট রিপোর্টে মো. আল মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে আসে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
অবৈধভাবে আয়-ব্যয়ের কাজ (ট্রেজারার) সম্পন্ন ও নিয়োগ অনিয়ম
২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বোর্ড ও কেন্দ্র ফি আত্মসাৎ
২০২২ ও ২০২৩ সালের সরকারি বই বিতরণে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ
বিদ্যালয়ের আয় যথাযথভাবে হিসাবভুক্ত না করা
ভোকেশনাল শাখার মার্কশিট ও সার্টিফিকেট বিতরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়
সিলেবাস বিক্রির অর্থ বিদ্যালয় ফান্ডে জমা না দেওয়া
২০২৩ সালে বিদায় অনুষ্ঠান না করেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়
নিজ ও ক্যন্টিন পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জন
তিনজন নারী শিক্ষকের ছুটিতে অনিয়ম ও বেতন-ভাতা প্রদান না করা
ভোকেশনাল শাখার একটি ল্যাপটপ আত্মসাৎ
নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের গোপনে পুনরায় পরীক্ষার মাধ্যমে অর্থ আদায়
শিক্ষকদের গ্রেড ও স্কেল সংক্রান্ত রেজুলেশনে গাফিলতি ও স্বেচ্ছাচারিতা

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য মো. আল মামুন মিয়া কে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হননি এবং সন্তোষজনক কোনো জবাব দেননি। সর্বশেষ তিনি ২২ আগস্ট ২০২৪ তারিখের পর থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।
এ অবস্থায় বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তাকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করে।

বরখাস্তের সিদ্ধান্তের অনুলিপি শিক্ষা উপদেষ্টা, শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মাসুদ খান জানান,
“প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts