
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও নিহত ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি বলেছেন, গত বছরের ৫ আগস্ট এর পরে বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষে মানুষ বৈষম্য বেড়েছে। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপর বর্বরোচিত হামলা হয়েছে আঘাত এসেছে। যে বিচার ব্যবস্থা ছিলো শেখ হাসিনার শাসন আমলে, দুর্বৃত্ত ও লালিত শাসন ব্যবস্থা, সেই বিচার ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং স্বাধীন হয়নি। যার ফলে আমরা দেখছি এই স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা হচ্ছে না, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৫৮ মাস উপলক্ষে আয়োজিত আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা আজকে ত্বকী হত্যার বিচার চাই। এই ওসমান পরিবার দ্বারা সকল হত্যার বিচার চাই। তনু ও সাংবাদিক সাগর রুনিসহ সকল হত্যার বিচার দাবি করছি।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি ত্বকী হত্যার ঘাতকেরা আয়েশী জীবন-যাপন করছে দেশের বাইরে। আজকে দেশে শেখ হাসিনা নেই। কিন্তু তারপরেও ত্বকী হত্যার সুষ্ঠ বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছি না। তারপরও আমরা ত্বকী হত্যার দ্রুত অভিযোগপত্র দিয়ে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। এবং আমাদের যে বৈষম্যমুক্ত সমাজের আকাক্সক্ষা সেটির বাস্তবায়ন দেখতে চাই।
ইতিহাসবিদ ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, মানুষ খুন করলে খুনির বিচার হয়। কিন্তু ত্বকী হত্যার বিচার হয়নি। কবে হবে সেটিও জানি না। তবে আমরা চাই ত্বকীসহ সকল হত্যার বিচার হোক। বিচার হওয়া মানে আইনের শাসন। আইনের শাসন না হলে গণতন্ত্র হয় না। সুতরাং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে হলে আইনের শাসন দরকার।
তিনি ত্বকী হত্যার দ্রুতবিচার দাবি করেন।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে এ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায়, জিয়াউল ইসলাম কাজল, প্রদীপ ঘোষ বাবু, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, বাসদ নেতা এসএম কাদির, সিপিবি নেতা আব্দুল হাই শরিফ, আবৃত্তি শিল্পী ফাহমিদা আজাদ প্রমুখ।� এতে সভাপতিত্ব করেন সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থ।