
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট নিরসন এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ‘ফুয়েল পাস’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিউআর কোডভিত্তিক এই ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে এখন থেকে নির্দিষ্ট যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে জ্বালানির পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। জ্বালানি তেলের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানো এবং চাহিদার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতেই মূলত এই বিশেষ পাস প্রবর্তন করা হচ্ছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মুনির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ, অকটেনভিত্তিক এই খাতে বর্তমানে চাহিদা তুলনামূলক বেশি এবং সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহকদের মাঝে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
ডিজিটাল এই পদ্ধতিতে প্রতিটি নিবন্ধিত যানবাহনের বিপরীতে একটি অনন্য কিউআর কোড ইস্যু করা হবে। এই ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে গ্রাহক শুধুমাত্র নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন। একবার জ্বালানি নেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের আগে ওই একই যানবাহনে পুনরায় তেল নেওয়া যাবে না। এর ফলে একই যানবাহনের বারবার জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ বন্ধ হবে এবং বাজারে তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হবে।
ফুয়েল পাস বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমানে একটি শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন এবং জ্বালানি গ্রহণের সঠিক সময় ও পরিমাণের ডিজিটাল রেকর্ড রাখা হবে। এতে করে বাজারে অতিরিক্ত চাপ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না বলে স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের সিস্টেম মাঠপর্যায়ে কার্যকর করতে সময় ও সঠিক সমন্বয় প্রয়োজন। তাই শুরুতে এটি সীমিত পরিসরে চালু করে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সারা দেশে বিস্তৃত করা হতে পারে।
গ্রাহক ভোগান্তি কমাতে এই পাসগুলো জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সরাসরি না দিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনগুলোর মাধ্যমে এগুলো সাধারণ চালকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।