
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, চরমোনাই পীর জাতীয় বেইমান ও ভণ্ড। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পতনে কোনো ভূমিকা ছিল না ইসলামী আন্দোলনের। বিগত ১৭ বছরের ফাসিস্টবিরোধী কোনো আন্দোলনে ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা বা চরমোনাই পীরের কোনো ভূমিকা ছিল না। বরং স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁদের সখ্য ছিল। বর্তমানে নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে দলটি। নির্বাচন বিঘ্নিত করতে নানা চক্রান্ত করা হচ্ছে। ইসলামের নামে তারা চক্রান্ত করছে। ষড়যন্ত্র করছে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এই জাতীয় বেইমানদের চিহ্নিত করে রাখতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না। ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করা হবে।
সোমবার (২২ সেপ দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা আউটডোর স্টেডিয়াম মাঠে সদর পূর্ব বিএনপির প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নিয়ে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবি উল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন, হারুনুর রশিদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন প্রমুখ।
জামায়াতের সমালোচনা করে এ্যানি বলেন, পিআর পদ্ধতি নিয়ে জামায়াতের ভূমিকা এবং তারা ’৮৬ ও ’৯৬ সালে বিভিন্নভাবে শুধু আমাদের অসহযোগিতা করে নাই, পুরো জাতিকে অসহযোগিতা করেছে। হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তাদের সঙ্গে থেকে জাতীয় বেইমান হিসেবে, আত্মস্বীকৃত বেইমান হিসেবে তারা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।’
বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এ্যানি বলেন, কেউ দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড করবেন; সেটা দল মেনে নেবে না। সেটা হতে দেওয়া হবে না। যাঁরা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যে ৩১ দফা রয়েছে, সেটা বাস্তবায়নে কাজ করছে বিএনপি। ফ্যাসিস্ট হাসিনার অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, খুন ও হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন বিএনপির অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মী। এরপরও আন্দোলন–সংগ্রাম বন্ধ করতে পারেনি।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সামনে আমাদের টার্গেট জাতীয় নির্বাচন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরামর্শ দিয়েছেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে টিমওয়ার্কের মাধ্যমে প্রত্যেক ঘরে ঘরে যেতে হবে। প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে হবে। সবার কাছে গিয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সালাম জানিয়ে ভোট চাইতে হবে।