
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের দেশ মাল্টা ও ফ্রান্স। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এই ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মাল্টার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এর আগে, রোববার ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং পর্তুগাল।
এদিকে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্যারিস। ফরাসি সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ফ্রান্সও একই পথে হাঁটছে ও এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করবে।
ফিলিস্তিনের পক্ষে দীর্ঘদিনের সমর্থনের ইতিহাস রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র মাল্টার। দেশটি দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে সমর্থনের পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। রোববার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে মাল্টার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট অ্যাবেলা গাজায় মাল্টার অনুদান হিসেবে পাঠানো আটা পৌঁছানোর তথ্য জানান। তিনি লিখেছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগের সন্ধ্যায় মাল্টার পক্ষ থেকে পাঠানো আটা গাজায় পৌঁছেছে। ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক, মাল্টা ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিলিস্তিনি প্রশ্ন আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আজ পর্যন্ত জাতিসংঘের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ও অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ এত দিন তা এড়িয়ে এসেছে। এবারের পরিবর্তনকে তাই ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।