
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় অবস্থিত সরকারি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ATI) দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকট, অব্যবস্থাপনা এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। হাতে-কলমে কৃষি শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও এখানে ল্যাবরেটরি অকেজো, ব্যবহারিক ক্লাস অনিয়মিত এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ব্যবহারিক ও প্রযুক্তি শিক্ষার বেহাল দশা
সরেজমিনে দেখা যায়, ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার ল্যাব দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ পড়ে আছে। ফলে অধিকাংশ কম্পিউটার নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই অবস্থা রসায়ন, পদার্থ ও জীববিজ্ঞান ল্যাবগুলোর।
শিক্ষার্থীরা জানান, কৃষি শিক্ষার মূল ভিত্তি মাঠ পর্যায়ের কাজ ও ল্যাবরেটরি হলেও তারা বাধ্য হয়ে শুধুমাত্র তাত্ত্বিক জ্ঞান নিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের অভাবে তাদের পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
নিরাপত্তাহীনতা ও মাদকের অভয়ারণ্য
ইনস্টিটিউটের সীমানা প্রাচীর ভেঙে বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, যার মাধ্যমে বহিরাগতরা সহজেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছে। প্রধান ফটকে কোনো স্থায়ী নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় ক্যাম্পাসটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন নির্জন স্থানে মাদক সেবনের আলামত, এমনকি কনডম ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে ছাত্রীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
সংস্কারহীন ক্যাম্পাস ও বন্ধ ক্যান্টিন
ক্যাম্পাসের পুকুরটি কচুরিপানা ও ঝোপঝাড়ে ভরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় খাবার ও সামগ্রী কিনতে বাইরে যেতে হয়, যা নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
লাইব্রেরি থাকলেও তা বেশিরভাগ সময় তালাবদ্ধ থাকে এবং কোনো মুক্তমঞ্চ না থাকায় শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের মৌলিক শিক্ষা ও নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অথচ বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। আমরা একটি নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ চাই।”
এ বিষয়ে শিক্ষকদের সাথে কথা বললে তারা বাজেট সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের এমন দায়সারা বক্তব্যে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি
বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কৃষি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি—দ্রুত সীমানা প্রাচীর সংস্কার, স্থায়ী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ এবং ল্যাবরেটরি সচল করে একটি নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা