
আপডেটঃ ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১০, ২০২৫
আওয়ামী লীগের ঘোষিত ১৩ নভেম্বরের ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির এক জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ওইদিন কেউ যদি লকডাউন কর্মসূচি বাস্তবায়নের নামে মাঠে নামে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করা হবে।
বৈঠকে আগামী কয়েক দিন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েনের নির্দেশও দেওয়া হয়। উপস্থিত কর্মকর্তাদের জানানো হয়, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা কমিটির পরবর্তী বৈঠক মূলত মঙ্গলবার হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে তা এগিয়ে আনা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী, র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা।বৈঠকে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে অনুমোদন পায়। এতে বলা হয়, যেকোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা গাড়ি তাৎক্ষণিকভাবে তল্লাশি করা হবে, যেন কেউ সংগঠিতভাবে কর্মসূচির নামে নাশকতা বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে।
সভায় একটি গোয়েন্দা সংস্থা আওয়ামী লীগের বরিশাল অঞ্চলের দুই নেতার নাম উল্লেখ করে জানায়, তারা বিদেশে বসে অতীতের মতো পুনরায় কিছু কর্মকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা করছেন। এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।এ ছাড়া বৈঠকে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেনাবাহিনীকে ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দেন। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত তাদের মাঠে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকার যেকোনো পরিস্থিতিতেই রাজধানীতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। কেউ যদি রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে নাশকতা বা সহিংসতার চেষ্টা করে, তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
IPCS News : Dhaka :