• শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন |
  • English Version
ব্রেকিং নিউজঃ
মনোহরদীতে বজ্রপাত মোকাবিলায় ২ হাজার তালবীজ রোপণ বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস: সীমাবদ্ধতা নয়, সম্ভাবনাই হোক পরিচয় মনোহরদীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান মনোহরদীতে ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি রুদ্র গ্রেপ্তার মনোহরদীতে কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ সম্প্রচার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত মনোহরদীতে জমি বিরোধে বৃদ্ধ নিহত, হত্যা মামলার আসামি ইয়াসিন গ্রেপ্তার মনোহরদীতে মানিক মাস্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন মনোহরদীতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’, ২ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে গাছের চারা বিতরণ মনোহরদীতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি: ২ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে গাছের চারা বিতরণ মনোহরদীতে ইয়াবা সেবনের সময় যুবক আটক, ৬ মাসের কারাদণ্ড

লিবিয়ার জাহান্নাম পেরিয়ে ইতালির স্বপ্নপূরণ: বুলবুলের সংগ্রামী জীবনের গল্প

Reporter Name / ৩১৭ Time View
Update : শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
Oplus_131072

লিবিয়ার জাহান্নাম পেরিয়ে ইতালির স্বপ্নপূরণ: বুলবুলের সংগ্রামী জীবনের গল্প
মো হিমেল মিয়া।
মনোহরদী নরসিংদী।
নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার খিদিরপুর ইউনিয়নের বীর আহম্মদপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বুলবুল আজ অনেকের কাছেই এক জীবন্ত অনুপ্রেরণার নাম। পাঁচ ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে তৃতীয় সন্তান বুলবুলের জীবন শুরু থেকেই ছিল কষ্টে ঘেরা।
নিজ গ্রামেই তার বেড়ে ওঠা। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে সাগরদী বাজারসংলগ্ন আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে। ছোটবেলা থেকে সে ছিল ডানপিটে ও চঞ্চল প্রকৃতির। বেকার অবস্থাতেই পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় মনোহরদী থানার ডোমনমারা গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে। বিয়ের পর প্রথম চার-পাঁচ মাস ভালোই চলছিল তাদের সংসার। তবে এরপরই শুরু হয় পারিবারিক অশান্তি।
বুলবুলের স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মানসিকভাবে চাপ দিতে থাকে। মূল অভিযোগ ছিল—সে কেন ইতালিতে যেতে পারেনি। এই বিষয়টি নিয়ে তাকে নানা কটূ কথা ও অপমান সহ্য করতে হয়। এক পর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার স্ত্রীকে নিয়ে যায় এবং তাদের প্ররোচনায় বুলবুলের স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দেয়।
ডিভোর্সের পর বুলবুল মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। হতাশা তাকে গ্রাস করে নেয়, এমনকি একসময় সে অস্বাভাবিক আচরণও করতে শুরু করে। স্ত্রীর চলে যাওয়ার একমাত্র কারণ ছিল তার বেকারত্ব এবং বিদেশে, বিশেষ করে ইতালিতে যেতে না পারা।
তবুও হাল ছাড়েনি বুলবুল। দেশে থেকেই বারবার চেষ্টা চালায় ইতালিতে যাওয়ার জন্য, কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সে পাড়ি জমায় লিবিয়ায়। সেখানে শুরু হয় তার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়। প্রায় ছয় মাস সে বন্দী অবস্থায় ছিল। নির্মম নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে তাকে। খাবার হিসেবে মাসে মাত্র একটি রুটি জুটত। বুলবুলের ভাষায়, “লিবিয়ার জীবন ছিল আমার জন্য একেবারে জাহান্নাম।”
দীর্ঘ কষ্ট, নির্যাতন ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে মুক্তি মেলে তার। সব বাধা পেরিয়ে বুলবুল পৌঁছে যায় তার স্বপ্নের দেশ ইতালিতে। বর্তমানে সেখানে সে ভালো আছে এবং নতুন করে জীবন গুছিয়ে নিচ্ছে।
যে ইতালিতে যেতে না পারার কারণে তার প্রিয়তম স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল, আজ সেই ইতালিতেই নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছে বুলবুল। তার এই সংগ্রামী জীবন অনেক তরুণের জন্যই সতর্কবার্তা ও অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকল।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category