• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২১ অপরাহ্ন |
  • English Version
ব্রেকিং নিউজঃ
মনোহরদীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান মনোহরদীতে ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি রুদ্র গ্রেপ্তার মনোহরদীতে কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ সম্প্রচার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত মনোহরদীতে জমি বিরোধে বৃদ্ধ নিহত, হত্যা মামলার আসামি ইয়াসিন গ্রেপ্তার মনোহরদীতে মানিক মাস্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন মনোহরদীতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’, ২ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে গাছের চারা বিতরণ মনোহরদীতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি: ২ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে গাছের চারা বিতরণ মনোহরদীতে ইয়াবা সেবনের সময় যুবক আটক, ৬ মাসের কারাদণ্ড মনোহরদীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। মনোহরদীতে খাঁড়াব মুন্সিবাড়ী প্রবাসী সংগঠনের উদ্যোগে এসএসসি ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

জীবন বদলের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র

Reporter Name / ১১৬ Time View
Update : সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২১ অপরাহ্ন

[ad_1]

আমরা প্রায়ই এমন অনেক শিক্ষার্থীকে দেখি, যাদের পড়ালেখা করতে ভালো লাগে না, বই খুলতে ইচ্ছে করে না, ক্লাসে মন বসে না। তারা ভাবে—“পড়াশোনা আমার জন্য না”, “এগুলো করে কী হবে?”। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই একটিমাত্র অভ্যাস “পড়ালেখা”একজন মানুষের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে। এটি শুধু পরীক্ষায় পাশ করার জন্য নয় এটি চিন্তার শক্তি বাড়ায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি করে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুলে দেয়।

 

পড়ালেখা কেন জীবন বদলের অস্ত্র? পড়ালেখা হলো এমন একটি শক্তি, যা কাউকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। এটি জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম। কেউ যত বেশি জানবে তত বেশি বুঝবে পৃথিবীকে।পড়ালেখার মাধ্যমে সুযোগের দরজা খোলে। ভালো চাকরি, উচ্চশিক্ষা, সম্মান সবকিছুর মূলেই শিক্ষা।পড়ালেখা আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। একজন শিক্ষিত মানুষ নিজের মত প্রকাশ করতে পারে নির্ভয়ে। পড়ালেখা সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ায়।জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। পড়ালেখা শুধু একজন “ভালো ছাত্র” বানায় না; এটি একজন “সফল মানুষ” বানায়।

 

শিক্ষার্থীর পড়ালেখা ভালো না লাগার পিছনেও বিভিন্ন কারন থাকে। অনেক সময় আমরা শুধু বলি “পড়তে হবে”, কিন্তু কেন পড়তে ভালো লাগে না—সেটা বুঝতে চাই না। অনেক শিক্ষার্থী বিশেষ করে গণিত বা কঠিন বিষয় বুঝতে না পেরে ভয় পায়। বারবার ব্যর্থ হলে তাদের মনে হয়—“আমি পারব না”। অভিভাবক বা শিক্ষক যখন শুধুই ফলাফল চায়, তখন পড়ালেখা আনন্দের বদলে চাপ হয়ে দাঁড়ায়। সবাই একইভাবে শেখে না। কেউ শুনে ভালো শেখে, কেউ দেখে, কেউ হাতে-কলমে। কিন্তু আমরা সবাইকে একইভাবে পড়াই। বাস্তব জীবনের সাথে পড়ালেখার সংযোগ না থাকা অথবা সংযোাগ বুঝতে না পারার কারনে  শিক্ষার্থীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। অন্যদিকে  মোবাইল, গেম, সোশ্যাল মিডিয়া সহজ আনন্দের প্রভাব।  তাই কৌশল বদলাতে হবে। ভয় দূর করে আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হবে।ছোট ছোট সাফল্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাকে খেলাধুলা, গল্প, বাস্তব উদাহরণের সাথে যুক্ত করতে হবে। যখন শেখা আনন্দের হবে, তখনই আগ্রহ বাড়বে।

 

সব শিক্ষার্থী একরকম নয়। কেউ ভিডিও দেখে ভালো শেখে। কেউ গ্রুপে আলোচনা করে ভালো লিখে। এই বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। বাস্তব জীবনের সাথে সংযোগ তৈরি করা যেমন—গণিত শেখানোর সময় বাজারের হিসাব, বিজ্ঞান শেখানোর সময় দৈনন্দিন জীবনের উদাহরণ দিলে তখন শিক্ষার্থী বুঝে—“এটা আমার জীবনের জন্য দরকার”। শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করা যেতে পারে —“তুমি কী হতে চাও?” তারপর বুঝাতে হবে—সেই জায়গায় যেতে পড়ালেখা কেন প্রয়োজন। প্রযুক্তিকে শত্রু নয়, সহায়ক বানাতে হবে। মোবাইল বা ইন্টারনেটকে পুরোপুরি বন্ধ না করে, শেখার কাজে ব্যবহার করতে হবে— যেমন : শিক্ষামূলক ভিডিও, অ্যাপ, কুইজ ইত্যাদি।

 

ছোট অগ্রগতিও যদি স্বীকৃতি পায়, শিক্ষার্থীর ভেতরে তখন নতুন উদ্যম তৈরি হয়। একজন শিক্ষার্থী একা পরিবর্তন হতে পারে না; তাকে সহায়তা করতে হয়। শিক্ষককে হতে হবে বন্ধুসুলভ ও সহানুভূতিশীল। অভিভাবকগন শিক্ষার্থীকে চাপ না দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। ভুলের জন্য অপমান নয়, বরং দিকনির্দেশনা দিতে হবে। যখন শিক্ষার্থী নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ পায়, তখন সে শেখার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। ভালো লাগা সবসময় আগে আসে না, অনেক সময় কাজ করতে করতেও ভালো লাগা তৈরি হয়।

 

লেখক-

ড. মো: বিল্লাল হোসেন 

উপাধ্যক্ষ

মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ,  

কাঁচপুর, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ



[ad_2]


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category