• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন |
  • English Version
ব্রেকিং নিউজঃ
ফতুল্লায় ৪০০ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, কারখানাকে জরিমানা পাইকপাড়ায় ২০৮ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার রূপগঞ্জে ২ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মনোহরদীতে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড নারায়ণগঞ্জে মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে সেনসিটাইজেশন কর্মশালা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে জেলা প্রশাসকের ফলোআপ পরিদর্শন রূপগঞ্জে বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন বন্দরে গ্যাস বিস্ফোরণ: একে একে চলে গেল পরিবারের ৪ সদস্য বন্দরে ৯ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানি: অভিযুক্ত গ্রেপ্তার – Zaawansowana Platforma Rozrywki Online Dla Wymagających Graczy

আমরা অন্তর্বর্তী সরকার, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ

Reporter Name / ১৫৮ Time View
Update : বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন


তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন বলে মন্তব্য করেছেন তার ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক সমাপ্ত হয়েছে। এই সময় দেশজুড়ে এবং বিদেশে অবস্থানরত শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভালোবাসা, সমবেদনা ও দোয়া আমাদের পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) ৬টা ৪২ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে রাজধার জিয়া উদ্যানে মায়ের কবর জিয়ারতের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিখেছেন, এই তিন দিনে আমরা আরও উপলব্ধি করেছি, আমার মা ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন। অনেক ক্ষেত্রে তা ছিল এতটাই অর্থবহ, যা হয়তো আমরা নিজেরাও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারিনি। অনেকের কাছে তিনি ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক; নিজের বিশ্বাসের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়ানোর অটল প্রেরণা। রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে এই প্রেরণা বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে; পরিচয়, আদর্শ ও অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে অগণিত মানুষকে স্পর্শ করেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিখেন, তাদের নেতৃত্ব ও দ্রুত সমন্বয়ের কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে এই বিরল ও সম্মানজনক অন্তিম আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

তারেক রহমান লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ, দেশ-বিদেশের নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিকবৃন্দ এবং বিশ্বের নানা প্রান্তের অংশীদারদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সহমর্মিতা ও সংহতি আমাদের হৃদয়কে গভীরভাবে আলোড়িত করেছে। জানাজায় বিভিন্ন দেশের সম্মানিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি, সমবেদনার চিঠি ও বার্তা, শোক বইয়ে লেখা কথা, সামাজিক মাধ্যমে অগণিত অনুভূতির প্রকাশ, বাংলাদেশে অবস্থিত মিশন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি— এই প্রতিটি সম্মাননাই ছিল অভূতপূর্ব। আমি আবারও কৃতজ্ঞতা জানাই সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসন ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি সদস্যকে। মায়ের শেষ বিদায়ে আপনাদের দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি জিয়া পরিবারকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।

তারেক রহমান লিখেন, এই শোকের দিনগুলো যেন মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সম্পন্ন হয়, সে জন্য যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের সবার প্রতিই আমরা কৃতজ্ঞ। বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে। তাদের সম্মানসূচক গার্ড অব অনার ও শেষ সালাম আমার মায়ের জীবন ও অবদানের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। তাকে সমাধিতে পৌঁছে দিয়ে তারা জাতির শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন এবং অন্তিম যাত্রাকে প্রাপ্য সম্মানে আলোকিত করেছেন। এ কথাও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আরও অনেক মানুষ, যাদের নাম বা ভূমিকা হয়তো আলাদাভাবে উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি, তারা নীরবে ও নির্মোহভাবে এই পুরো প্রক্রিয়াকে সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছেন। পর্দার আড়ালে বা জনসম্মুখের বাইরে থেকে দায়িত্ব পালনকারী সকলের প্রতি রইল আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আলহামদুলিল্লাহ, আপনাদের প্রচেষ্টাতেই আমাদের পরিবার ও জাতি মর্যাদার সঙ্গে মায়ের স্মৃতিকে ধারণ করতে পেরেছে।

তারেক রহমান লিখেছেন, সবশেষে, বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমার গভীর অভিবাদন। দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে এত মানুষের সমবেত হয়ে দেশনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দৃশ্য আমাদের পরিবার কখনোই ভুলবে না। এই শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি গণমানুষের সহমর্মিতা ও মানবিক আবেগেরই প্রতিফলন। আমাদের পরিবার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে, শোক ও স্মরণের এই সময়ে যারা আমাদের পাশে ছিলেন, তাদের সবাইকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সংহতি আমাদের সান্ত্বনা ও শক্তি জুগিয়েছে, আর আমরা তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আগামীর বাংলাদেশে বয়ে নিয়ে চলব, ইনশাআল্লাহ।

গত ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বেগম খালেদা জিয়া। পরদিন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মিলিয়ন মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন বিকেলেই তাকে জিয়া উদ্যানে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। বেগম জিয়ার মৃত্যুতে সারাদেশে শোক নেমে আসে। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে সরকার। সমাহিত হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর কবর জিয়ারতের জন্য জিয়া উদ্যানে জড়ো হচ্ছেন।




আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts