
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী–এর বিরুদ্ধে দায়ের করা আরও দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে বর্তমানে তার বিরুদ্ধে থাকা মোট ১২টি মামলাতেই তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে “নো অর্ডার” দেন। এর ফলে হাইকোর্টের জামিন আদেশ কার্যকর থাকছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আইভীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু ও আইনজীবী এস এম সিদ্দিকুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
আইভীপক্ষের আইনজীবীরা জানান, এর আগে ১০টি মামলায় জামিন পাওয়ার পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আরও দুটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ওই দুই মামলাতেও হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিলে রাষ্ট্রপক্ষ তা স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে। তবে রোববার শুনানি শেষে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে কোনো আদেশ দেননি।
আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান বলেন, “১২টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনাদেশ এবং আপিল বিভাগের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে চলতি সপ্তাহেই আইভীর মুক্তি মিলতে পারে বলে আমরা আশা করছি।”
মামলাগুলোর পটভূমি
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ আগস্ট দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হলে দায়িত্ব হারান নারায়ণগঞ্জ সিটির টানা তিনবারের নির্বাচিত মেয়র আইভী।
এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিহত পোশাক শ্রমিক মিনারুল ইসলাম হত্যা মামলায় প্রথম তাকে আসামি করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে আরও একাধিক হত্যা ও সহিংসতার মামলায় তার নাম যুক্ত হয়।
গত ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করলে প্রথমে পাঁচটি মামলায় জামিন পান। তবে ওইদিনই আরও পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ, যা আদালত মঞ্জুর করেন।
পরবর্তীতে সেই মামলাগুলোতেও জামিন পাওয়ার পর আবার নতুন দুটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই সঙ্গে আগের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
একাধিক মামলায় ধারাবাহিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সম্প্রতি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইভীর আইনজীবীরা। সেই রিটের শুনানি শেষে গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া নতুন কোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না— তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো এবং পরপর গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবী মহল ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যেও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।