
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার অন্যতম ব্যস্ততম কেন্দ্র মদনপুর বাস স্ট্যান্ড বর্তমানে দখলদারদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ দোকানপাট স্থাপন, ফুটপাত দখল এবং অবৈধ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়লেও স্থানীয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কের দুই পাশে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দু’ধারে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ খাবারের হোটেল ও অস্থায়ী দোকান। ফুটপাতগুলো পুরোপুরি হকারদের দখলে চলে যাওয়ায় পথচারীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি পথচারীদের পারাপারের জন্য নির্মিত ফুটওভার ব্রিজও দখলমুক্ত নয়। ব্রিজের দুই পাশে দোকান বসানো থাকায় সাধারণ মানুষের ওঠানামা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ দোকানে কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। হোটেল মালিকরা এসব সংযোগ ব্যবহার করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এর বিনিময়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থ বিভিন্ন স্তরে ভাগ হওয়ায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এলাকাবাসীর মতে, একটি নির্দিষ্ট চক্র সরকারি জায়গা ভাড়া দিয়ে এবং ফুটপাত থেকে চাঁদা তুলে দ্রুত সম্পদের মালিক হয়ে উঠছে। অন্যদিকে, সড়কের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ায় বাস স্ট্যান্ড এলাকায় প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এক ভুক্তভোগী পথচারী বলেন, “রাস্তা দিয়ে হাঁটার কোনো উপায় নেই। ফুটপাত দখল হয়ে গেছে, এখন ওভারব্রিজেও দোকান বসানো হয়েছে। প্রশাসন সব দেখেও না দেখার ভান করছে।”
দিনের আলোতে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে কোনো উচ্ছেদ অভিযান না হওয়ায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে ফুটপাত ও সড়ক সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হোক। পাশাপাশি অবৈধ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।