• সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন |
  • English Version

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ১২ বছর আজ

Reporter Name / ৩ Time View
Update : সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন


আজ নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত “সাত খুন” ঘটনার ১২ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৪ সালের এই দিনে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি দেশের অন্যতম আলোচিত ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা হিসেবে এখনও স্মরণ করা হয়। 

নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন বর্তমান সরকারের কাছে।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক (লিংক রোড) থেকে অপহরণের শিকার হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিনদিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠে তাদের মরদেহ।
হত্যাকাণ্ডের শিকার অন্যরা হলেন— নজরুলের সহযোগী তাজুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপন, স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও আইনজীবী চন্দনের গাড়িচালক ইব্রাহিম।

এই হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর কয়েকজন সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে। পরে তদন্তে র‌্যাব-১১ এর তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তাসহ একাধিক সদস্যের জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসে।

ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দেখা দেয় এবং দ্রুত বিচার দাবিতে সোচ্চার হয় সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালে আদালত ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯জনকে  বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং কয়েকজনের সাজা কমিয়ে দেন।

তবে ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। আপিল বিভাগে মামলার শুনানি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় নিহতদের পরিবার ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে আসছে। তারা দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।

নিহত তাজুলের বাবা আবুল খায়ের বলেন, ‘আমরা বিচার দেখার আশায় এখনো বেঁচে আছি। দুইজনের বাবা এরই মধ্যে মারা গেছেন। আমরাও বিচার দেখে যেতে পারব কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।’ 
তিনি আরও বলেন, বিগত বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন বিএনপি সরকার নির্বাচিত হলে এই সাত খুনের বিচার সবার আগে সম্পূর্ণ করা হবে। আজ তিনি নেই আছে তার সন্তান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সাত খুনের রায় কার্যকর করে দেশে একটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে এমনটাই আশা করেন নিহতের পরিবার।

সাত খুন মামলার আইনজীবি নাসিক প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, দ্রুত মামলাটি নিস্পত্তি ও রায় কার্যকর করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট মহলে কথা বলেছি। 
তিনি আরও বলেন, মামলায় সাজা প্রাপ্ত আসামীরা আওয়ামীলীগের নেতা ও শীর্ষ নেতাদের আত্মীয় হওয়ায় ফ্যাসিস্ট সরকার রিভিও শুনানীতে বিচার কাজ স্থবির করে রেখেছে। আমরা মনে করেছিলাম রায়টি কার্যকর হলে দেশে খুন, গুমের সংস্কৃতি বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার আসামীদের দিয়ে আপীল বিভাগের রিভিসন করে বিচার কাজে স্থবিরতা করেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেন, সাত খুনের খুনি পক্ষ ছিল বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের, এ কারণেই এই মামলার বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে। রাষ্ট্র এবং বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেছে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবে প্রতিটা ক্ষেত্রে। এই সাত হত্যা নারায়ণগঞ্জ সহ সারা দেশে একটি আলোচিত চাঞ্চল্যকর হত্যা। এর বিচার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন মামলাটি আপিল বিভাগে আছে, খুব শিগগিরই এই মামলার কার্যক্রম সম্পূর্ণ হবে এ ব্যাপারে রাষ্ট্র গুরুত্ব সহকারে দেখছে।




আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts