
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ১১ বছর বয়সী শিশু হোসাইন হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) নিহতের মা রোকছানা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় এ মামলা করেন।
মামলায় ইয়াসিন (১৮), সাইফুল (১৯) ও তানভীর (১৮),ইউনুস(২০) নামের চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ইয়াসিনকে আটক করেছে পুলিশ, অন্যরা পলাতক রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত হোসাইন তার পরিবারসহ ফতুল্লার শিয়াচর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত। তার বাবা মো. সুমন জীবিকার তাগিদে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার রাসেল পার্ক এলাকায় ফুল বিক্রি করতেন এবং হোসাইনও মাঝে মাঝে বাবার সঙ্গে ওই কাজে সহযোগিতা করত।
গত ১৮ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে হোসাইন বাসা থেকে তার খালার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়। কিন্তু সেখানে না পৌঁছালে পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। কয়েকদিন ধরে কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়।
পরবর্তীতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে স্থানীয় লোকজন ইয়াসিনকে একটি মোবাইল ফোনালাপের সময় আটক করে। এ সময় সে হোসাইনকে হত্যার বিষয়ে কথা বলছিল বলে জানা যায়। পরে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াসিন হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইয়াসিনসহ অন্য আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হোসাইনকে ফতুল্লা রেলস্টেশন সংলগ্ন ব্যাংক কলোনীর একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। হত্যার পর লাশটি গোপন করতে ওই বাড়ির একটি কক্ষে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে এবং পুলিশকে খবর দেয়। নিহতের স্বজনরা সেখানে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। মরদেহে পচন ধরার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে এবং মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ফতুল্লা মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানায়, আটক আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।