
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার এনায়েত নগরে গার্মেন্টসের ওয়েস্টেজ মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশু গুলিবিদ্ধসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার এনায়েত নগর শাসনগাঁও চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন গুলিবিদ্ধ ইমরান (১১), রাকিব (২৩) এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক (৪০)।
চাঁদনী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিঃ’ নামের একটি পোশাক কারখানার ওয়েস্টেজ মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপের সঙ্গে যুবদলের অভি-মনির গ্রুপের সংঘর্ষ বাঁধে। পাঁচ আগষ্টের পর থেকে গার্মেন্টসটিতে ব্যাবসা করছিলেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারী সালাম।
বৃহস্পতিবার সকালে ঝুট ব্যাবসা নিয়ে বিরোধের এক পর্যায়ে ফতুল্লা থানা যুবদলের সভাপতি ফারুক মন্ডলের নেতৃত্বে একদল এখানে হামলা চালায়। তারা বেশ কিছুদিন যাবৎ এখানে চাঁদা দাবি করছিল। এছাড়াও এতে জড়ায় ফতুল্লার আরেক ঝুট ব্যাবসায়ী ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালীন অভি গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় এনায়েতনগর ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিব গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে রাসেল মাহমুদের নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ একই এলাকায় প্রবেশ করে গুলিবর্ষণ করতে থাকলে ১১ বছরের শিশু ইমরান গুলিবিদ্ধ হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে আহতরা শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন৷ এদের মধ্যে শিশু ইমরানকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
চাঁদনী হাউজিং এলাকার বাসিন্দারা জানান, সংঘর্ষের সময় অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলিতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জীবন রক্ষায় সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি শুরু করেন এবং ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
এনায়েত নগর ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকা জানান, ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক হাজী মাসুদুর রহমান মাসুদের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া অভি, মনির, সুমন, জসিমসহ ২০-৩০ জন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) হাসিনুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়েস্টেজ মালামাল নিয়ে বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।