
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের সৈয়দপুর এলাকায় বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে ধলেশ্বরী নদীর তীর দখল ও ভরাটের চেষ্টা করেছিল একটি চক্র। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে অভিযান চালিয়ে ড্রেজারের পাইপ ভেঙ্গে দেয় বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ। এসময় অভিযানকারী টিমকে দেখে ড্রেজার নিয়ে পালিয়ে যায় ভরাট চেষ্টাকারীরা।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রনাধীন ধলেশ^রী নদীর দুই তীরেই ফোরশোরে সিএস নক্সা অনুযায়ী কোন সীমানা পিলার নেই। নদীর ফোরশোরে সীমানা পিলার না থাকায় ধলেশ^রী নদীর উভয় পাড়ের প্রভাবশালীরা নদীর ফোরশোরকে তাদের নিজস্ব জমি দাবি করে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবন এবং বনায়ন করে নদী দখল চেষ্টা করে যাচ্ছে। এতে করে নৌপথ যেমন সংকুচিত হচ্ছে তেমন বিভিন্ন অবৈধভাবে গড়ে ওঠা শিল্প প্রতিষ্ঠানের দূষিত বর্জ্যে নদী দূষিত হচ্ছে। যার দরুন পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নদীর জীববৈচিত্র ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কয়েক বছর পূর্বেই বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে একাধিক চিঠিও প্রেরণ করেছে। তবে দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
স্থানীয়রা জানায়, গত কিছুদিন ধরে সৈয়দপুর এলাকায় ধলেশ^রীর তীরে মোল্লা সল্টের পক্ষ হয়ে গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকতার হোসেনের নেতৃত্বে নদীর তীরে বাশের আড়গাড়া স্থাপনের পর ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ভরাট করে নদী দখল ও ভরাটের মহোৎসব চলছিল। খবর পেয়ে বুধবার বিকেলে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, উপ পরিচালক সাজ্জাদুর রহমানসহ বিআইডব্লিউটিএ’র একটি টিম ও আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে বালু ভরাটকারীরা ড্রেজার নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। এসময় বালু ভরাটের জন্য স্থাপিত ড্রেজারের পাইপ ও বাশের পাইলিং ভেঙ্গে দেন বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকতার হোসেনের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি নদীর তীর দখল ও ভরাটের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ধলেশ^রীর তীর দখল ও ভরাটের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রেজারের পাইপ ও বাশের বেড়া ভেঙ্গে দিয়েছি। ভরাটকারীরা অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে ড্রেজার নিয়ে দ্রুত সটকে পড়েছে বলে তাদেরকে আটক করা যায়নি। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি মোল্লা সল্টের পক্ষ হয়ে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নদীর তীর দখল ভরাট করছি। এ বিষয়ে তদন্তের পরে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নদী দখলকারী যেই হোক তাদের কোন ছাড় নেই।