
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া এলাকায় অবস্থিত প্রান্তিক ফিলিং স্টেশনে টানা দুইদিন তেল সরবরাহ বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর থেকে দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র। মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারিতে সৃষ্টি হয়েছে চরম ভোগান্তি।
সকাল থেকেই পাম্পে তেল নিতে আসা চালকদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই ভোরে এসে লাইনে দাঁড়ালেও ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ তেল পাচ্ছেন না। এতে করে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সাধারণ চালকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের দীর্ঘ লাইন চাষাড়ার প্রধান সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আশপাশের সড়কে যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।
চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তেলের সীমিত সরবরাহের কারণে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সীমার মধ্যে তেল দিচ্ছে। মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার এবং প্রাইভেটকারে ১০০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
এক মোটরসাইকেল চালক জানান, “সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখন দুপুর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও তেল পাইনি। এত কম তেল দিয়ে আমাদের চলাচল সম্ভব না।”
এ বিষয়ে প্রান্তিক ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বিপ্লব দাস গণমাধ্যমকে জানান, গত ৫ ও ৬ এপ্রিল তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় আজ সকাল থেকেই পাম্পে চাপ বেড়েছে। তিনি বলেন, “আমরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সবার মাঝে তেল বিতরণের চেষ্টা করছি। তবে সরবরাহ সীমিত থাকায় নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
তিনি আরও জানান, তেল নিতে আসা চালকদের মধ্যে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।