
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে বিএনপির কথা ও কাজে মিল নেই বলে অভিযোগ করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে জুলাই অভ্যুত্থান কিছুটা সার্থক হয়েছে বলে মনে হবে। অন্যথায় জুলাই অভ্যুত্থান পুরোটাই ব্যর্থ। সরকারি দল গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে যে ধরনের টালবাহানা ও সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি করেছেন তা খুবই হতাশাজনক।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টনের পল্টনের বিজয়-৭১ চত্বরে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের অর্জন ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে টালবাহানা ও ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ বাতিলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে এবি পার্টি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল থেকে এ দাবি করেন। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলতাফ হোসাইনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ডা. আব্দুল ওহাব মিনার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বিজয়নগর, কাকরাইল, নয়া পল্টন ও পল্টন মোড় হয়ে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় অফিস চত্বরে এসে শেষ হয়।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে যদি আমাদের পরাজয় ঘটতো তাহলে শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমানসহ সব মুক্তিযোদ্ধারা দেশদ্রোহিতা ও পাকিস্তানের সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে ফাঁসির মুখোমুখি হতেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে এবং আজকে জুলাইয়ের শক্তিগুলোর মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে যে বিভেদ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, এর সূত্র ধরে যদি আবার কখনও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়, তাহলে তারেক রহমান, শফিকুর রহমান, ড. ইউনুস, নাহিদ ইসলামসহ আমাদের সবাইকে সংবিধান লঙ্ঘন ও বিপ্লবের দায়ে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। গণভোট, জুলাই জাতীয় সনদ আদেশ ও জুলাই সনদকে সাংবিধানিক প্রশ্নে বিতর্কিত করা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের কণ্ঠে সুর মিলানোর শামিল।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলের ঠিকানা হচ্ছে রাজপথ। রাজপথই বাংলাদেশের ইতিহাস বারবার বদলে দেয়। যদি জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা হয় তবে আমাদেরকে রাজপথই বেছে নিতে হবে এবং গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ আমরা জুলাইয়ের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমও আনাসসহ ৬ বছরের শিশু শহীদ রিয়া গোপকে ভুলতে পারবো না। জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশকে আমরা রক্ষা করবই করবো।
—এজেড