
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ বাতিল বা পরে উত্থাপনের প্রস্তাবে বিরোধীরা মর্মাহত বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেছেন, ১৩৩টির মধ্যে মানবাধিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক, গুমসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ বাতিল বা পরে উত্থাপনের জন্য প্রস্তাব করেছে সরকার। সরকারের এমন প্রস্তাবে বিরোধীরা মর্মাহত। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশগুলোও সরকার পরে উত্থাপন করতে চায়, যা স্বাধীন বিচার ব্যবস্থাকে হস্তক্ষেপের নামান্তর। এতে আমরা আশাহত। ১৬বিষয় পরে উত্থাপনের কথা বলে সুকৌশলে প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। গুম, বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়সহ বাকিগুলো যেনো সরকার এখন উত্থাপন করে, সেজন্য সরকারের কাছে আহ্বান আমাদের।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী দিনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে গঠন করা হয় বিশেষ কমিটি। ১৩ সদস্যের কমিটির সদস্য করা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ সরকার দলীয় ১০ সদস্য এবং বিরোধী দলের ৩ জন সদস্যকে। বিশেষ কমিটি ৩ দিন বৈঠকে বসে। এসব বৈঠকে আলোচিত হয় ১৩৩টি অধ্যাদেশ। পরে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয় ৯৮টি অধ্যাদেশ। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন অধ্যাদেশ, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অধ্যাদেশসহ সংশোধিত আকারে সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশকৃত অধ্যাদেশের সংখ্যা ১৫টি।
এছাড়া গণভোট অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তীকালে যাচাই-বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে জাতীয় সংসদ সচিবালয় অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশোধন অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করেন বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। অধিবেশন শেষে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি জানান, ৯ এপ্রিলের মধ্যে উত্থাপিত অধ্যাদেশ পাশ করার চেষ্টা করবেন তারা।
১৩৩টির মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত না হওয়ার সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন বিশেষ কমিটির বিরোধী দলের তিন সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান ও জিএম নজরুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০০৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জারি করা হয় এসব অধ্যাদেশ। আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে এসব অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
—এজেড