
বন্দরে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ধর্ষিতা কিশোরীর পিতা বাদী হয়ে বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে প্রেমিক রিফাত ও তার সহযোগী রোমানের নাম উল্লেখ করে বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এহ মামলা দায়ের করেন।
এর আগে গত রোববার (২৯ মার্চ) বিকেল ৩টায় বন্দরের নবীগঞ্জ কদম এলাকায় দেয়াল নির্মানকৃত জমিতে এ ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার পর ২২ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষকদের কাউকে গ্রেপ্তার করার খবর পাওয়া যায়নি।
মামলার সূত্রমতে, ওই কিশোরী স্থানীয় একটি স্কুল থেকে ৮ম শ্রেণীপাশ করে পড়ালেখা বন্ধ করে বাড়িতেই থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার একটি টিকটক আইডি রয়েছে। উক্ত টিকটক আইডির মাধ্যমে বন্দর থানার নবীগঞ্জ রসুলবাগ এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে রিফাত (২১) এর সাথে পরিচয় হয়। সে সুবাদে রিফাত কিশোরীর সাথে প্রতিনিয়ত কথা বলে। এক পর্যায়ে তাদের দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমিক রিফাত কিশোরীকে দেখা করার জন্য বন্দর খেয়াঘাটে আসতে বললে ওই সময় কিশোরী জানায় তার কাছে ভাড়া নেই। তখন কিশোরী একটি বিকাশ নাম্বার দিলে রিফাত ওই বিকাশ নাম্বারে ৫০০ টাকা পাঠায়। টাকা পাওয়ার পর গত রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৬টায় কিশোরী বাড়ীর কাউকে না জানিয়ে সুদূর চাঁদপুর লঞ্চঘাট হতে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাটে নেমে পরে। ওই সময় প্রেমিক রিফাত ফোন করে ওই কিশোরীকে বন্দর খেয়াঘাটে আসতে বলে। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুর ১টায় প্রেমিকের কথামতে বন্দর খেয়াঘাটে গেলে রিফাত কিশোরীকে নিয়ে মিশুক যোগে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে ওই দিন বিকেল ৩টায় বন্দর থানার নবীগঞ্জ কদম রসুল নামক নির্জনস্থানে ৪ ফুট উচ্চতার দেওয়াল নির্মানকৃত জমিতে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে কিশোরী রিফাতের বন্ধু রোমানকে দেখতে পায়। ওই সময় রিফাত ও তার বন্ধু রোমান বিভিন্ন কথা বলে কিশোরীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেয়। কিশোরী তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রিফাত তার বন্ধু রোমানের সহায়তায় কিশোরীকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ওই সময় রোমান দেওয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে পাহারায় ছিল। রিফাত ধর্ষণ শেষে দেওয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে পাহারা দিলে ওই সময় রোমান কিশোরীকে ধর্ষণ করে কৌশলে পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে বন্দর থানার সেকেন্ড অফিসার মনির হোসেন জানান, গণধর্ষণের ঘটনায় থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। সেই সাথে ভিকটিমকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরিক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যহত রয়েছে।