
অবৈধ পথে ইউরোপযাত্রায় ২২ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে এই প্রবণতা ও কিছু মানুষের অতি উচ্চাভিলাষের সমালোচনা করেছেন সুপরিচিত আলেম ও আলোচক আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নিজের জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে নিষেধ করেছেন উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, জীবনকে চূড়ান্ত হুমকির মাঝে ফেলে উপার্জনের জন্য পা বাড়ানো ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি প্রকারান্তরে আত্মহত্যার শামিল।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এই ঘটনা এবারই প্রথম নয়। কিছুদিন পরপরই এমন লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে আর আমরা স্তম্ভিত হই। ইউরোপের অলীক স্বপ্নে বিভোর হয়ে, জীবন হাতে নিয়ে এমন দুঃসাহসী অভিযানে যারা পা বাড়ায়, তারা কেউই সম্ভবত নিঃস্ব নয়। দালালের হাতে যে টাকার বান্ডিল গুঁজে দিয়ে তারা উত্তাল সাগরে জীবন ভাসায়, চাইলে ওই টাকা দিয়ে তারা দেশেই সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। কিন্তু ওই ছোট পেশায় যে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা যে উচ্চাভিলাষী। আমাদের স্বপ্ন যে সাধ্যের চেয়েও অনেক বড়। ইউরোপের চোখ ধাঁধানো আলোর মাঝেই যে আমরা খুঁজে ফিরি সুখের মঞ্জিল! কিন্তু আমরা এমন স্বপ্ন কেন দেখি, যে স্বপ্ন ছুঁতে গেলে হায়াতের সীমানা পাড়ি দিতে হয়! যে স্বপ্ন ছুঁতে গিয়ে নিজের লাশটাও দেশের মাটি থেকে বঞ্চিত হয়!
উচ্চাভিলাষের রঙিন পর্দায় আমাদের চোখ অন্ধ হয়ে গেছে মন্তব্য করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এসব ঘটনা বারবার আমাদের সতর্ক করে যায়। কিন্তু আমরা সতর্ক হই না। ভোগবাদী সভ্যতা আমাদের প্রতিনিয়ত এভাবেই এক অবাস্তব উচ্চাকাঙ্ক্ষার দিকে তাড়া করে ফিরছে। যাতে আমরা খেই হারিয়ে ফেলছি। আমরা হারিয়ে ফেলছি জীবনের মানে। এটা মুমিনের চরিত্র নয়। মুমিন নিশ্চিত মৃত্যুর ঝুঁকি নিতে পারে না। মুমিনের স্বপ্ন থাকবে, কিন্তু সে উচ্চাভিলাষী হবে না। যারা এখনো এই বিপদসংকুল পথে পা বাড়ানোর চিন্তা করছেন, ফিরে আসুন। অবৈধ পথে ইউরোপের কথিত রঙিন জীবনের চেয়ে দেশের মাটিতে বাবা-মার স্নেহছায়ায় ঘাম ঝরানো ডাল-ভাত অনেক তৃপ্তিদায়ক।
তিনি আরও বলেন, এদেশে চাকরির বাজার সংকুচিত। নির্বিঘ্নে ব্যবসা করার পরিবেশ তেমন নেই। বেকারত্বের কশাঘাতে জর্জরিত যুবসমাজ। চোরাই পথে ইউরোপ গমনের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পেছনে আমাদের সংকুচিত কর্মসংস্থানেরও দায় রয়েছে। তাই, যুবসমাজের কর্মসংস্থানের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।