
আপডেটঃ ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ২৩, ২০২৫
গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় অভিযুক্ত ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে আজ সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ আনা হয়েছে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে। ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে সকাল থেকেই অতিরিক্ত সেনা সদস্য ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। প্রিজনভ্যানে করে অভিযুক্তদের আনার সময় পুরো এলাকা ঘিরে ছিল পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা।
রোববার সকাল ১০টার দিকে তাদের প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে একে একে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নেওয়া হয়। মামলার প্রসঙ্গে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া এসব মামলাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।এ মামলাগুলোর পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। মোট তিনটি মামলায় মোট ২৫ জন বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত ৮ অক্টোবর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। একইদিন প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে।তারপর ২২ অক্টোবর সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা ১৫ কর্মকর্তাকে সাধারণ পোশাকে বিশেষ প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। সেদিনের শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল, পরে তাদের ঢাকা সেনানিবাসের ঘোষিত সাব-জেলে স্থানান্তর করা হয়।
মামলাগুলোতে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বাংলা ও ইংরেজি দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল, যা ইতোমধ্যে প্রকাশ হয়েছে। এদিকে পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালকসহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
আজকের হাজিরা এবং কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ইঙ্গিত করছে যে মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া আরও জোরদারভাবে এগোতে যাচ্ছে, যা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
IPCS News : Dhaka :